ঢাকা,  রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

প্রশংসায় অহংকার নয়, আল্লাহর শুকরিয়া

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৮, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রশংসায় অহংকার নয়, আল্লাহর শুকরিয়া
সংগৃহীত ছবি

নিজের ভালো কাজের স্বীকৃতি কিংবা প্রশংসা পেলে মানুষের ভালো লাগাটাই স্বাভাবিক। কেউ জ্ঞান, যোগ্যতা, আমল বা চরিত্রের প্রশংসা করলে মনে আনন্দ তৈরি হয়। তবে এই প্রশংসা কখনো কখনো আত্মতুষ্টি ও অহংকারের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রশংসা যদি মানুষকে আরও ভালো কাজের অনুপ্রেরণা দেয়, তা ইতিবাচক। কিন্তু সেই প্রশংসার কারণে কেউ নিজের ত্রুটি ভুলে গেলে, আমলে অহংকার চলে এলে কিংবা নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করতে শুরু করলে তা বিপদের কারণ হতে পারে।

Advertisement

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব, তোমরা নিজেদের পবিত্র বলে দাবি করো না। কে তাকওয়াবান, সে সম্পর্কে তিনিই সর্বাধিক অবগত।’ (সুরা : নাজম, আয়াত : ৩২)

মানুষ নিজের বাহ্যিক আমল সম্পর্কে ধারণা রাখতে পারে। কিন্তু তার অন্তরের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সে পুরোপুরি অবগত নয়। কোনো আমল আল্লাহর কাছে কতটা কবুল হয়েছে, সেটিও মানুষের জানা নেই। তাই অন্যের প্রশংসা শুনে নিজেকে নিশ্চিতভাবে নেককার বা ভালো মানুষ মনে করা উচিত নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) অতিরিক্ত প্রশংসা করতেও সতর্ক করেছেন। একবার এক ব্যক্তি হজরত উসমান (রা.)-এর অতিরিক্ত প্রশংসা করলে হজরত মিকদাদ (রা.) তার দিকে কঙ্কর নিক্ষেপ করেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন অতিরিক্ত প্রশংসাকারীদের দেখবে, তখন তাদের মুখে মাটি নিক্ষেপ করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩০০২)

অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) একজন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তির অতিরিক্ত প্রশংসা করতে শুনে বলেন, ‘তোমরা তো লোকটির মেরুদণ্ড ভেঙে দিলে।’ অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রশংসার মাধ্যমে তাকে বিপদের মধ্যে ফেলে দেওয়া হলো। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৬০)

তাই কেউ প্রশংসা করলে নিজের কৃতিত্বে মুগ্ধ না হয়ে মনে রাখা উচিত—আমার মধ্যে যে ভালো কিছু রয়েছে, তা আল্লাহর দান। জ্ঞান, সামর্থ্য এবং ভালো কাজ করার তাওফিক—সবই তাঁর পক্ষ থেকে এসেছে। ফলে প্রশংসার জবাবে আত্মতুষ্ট হওয়ার পরিবর্তে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়াই মুমিনের জন্য উত্তম।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কাছে যে নিয়ামত রয়েছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৫৩)

প্রশংসা শুনে আত্মতুষ্টি থেকে বাঁচার একটি উপায় হলো নিজের এমন দুর্বলতার কথা স্মরণ করা, যা অন্যরা জানে না। মানুষ সাধারণত আমাদের বাহ্যিক দিক দেখে প্রশংসা করে। কিন্তু আল্লাহ মানুষের প্রকাশ্য ও গোপন—সবকিছুই জানেন। তাই মানুষের প্রশংসার ভিত্তিতে নিজের মূল্যায়ন না করে মনে রাখা উচিত, আল্লাহ আমার এমন অনেক বিষয় জানেন, যা অন্য কেউ জানে না।

নিজের ভালো কাজ মানুষের সামনে তুলে ধরাও আত্মতুষ্টির কারণ হতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘তুমি কি তাদের দেখোনি, যারা নিজেদের পবিত্র বলে দাবি করে? বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪৯)

প্রশংসা শুনলে যে দোয়া পড়বেন

কারো প্রশংসা শুনে আত্মতুষ্টি থেকে বাঁচতে সালাফদের থেকে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ দোয়া পড়া যায়—

اللَّهُمَّ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا يَقُولُونَ، وَاغْفِرْ لِي مَا لَا يَعْلَمُونَ، وَاجْعَلْنِي خَيْرًا مِمَّا يَظُنُّونَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা তুআখিযনি বিমা ইয়াকুলুনা, ওয়াগফিরলি মা লা ইয়া‘লামুনা। ওয়াজ‘আলনি খাইরাম মিম্মা ইয়াযুন্নুন।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তারা আমার সম্পর্কে যা বলে, সে কারণে আমাকে পাকড়াও করবেন না; তারা আমার যে বিষয়গুলো জানে না, সেগুলো ক্ষমা করুন এবং তারা আমাকে যেমন মনে করে, তার চেয়ে আমাকে উত্তম করে দিন।’

অতএব, কেউ প্রশংসা করলে মনে রাখা উচিত—মানুষ আমাদের যতটুকু জানে, আল্লাহ তার চেয়েও বেশি জানেন। মানুষ শুধু বাহ্যিক আমল দেখে, আর আল্লাহ মানুষের অন্তরও জানেন। তাই প্রশংসায় আত্মতুষ্ট না হয়ে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং নিজের সংশোধনে মনোযোগী হওয়াই উচিত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!