ঢাকা,  সোমবার   ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
ছোট্ট ছেলেকে বুকে জড়ানো হলো না

কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন প্রবাসী শহিদুল, এলাকায় শোকের ছায়া

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫৯, ২ অক্টোবর ২০২৬
কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন প্রবাসী শহিদুল, এলাকায় শোকের ছায়া
কাতারপ্রবাসীর মৃত্যুতে সাঁথিয়ার বামনডাঙ্গায় শোকের মাতম

চার মেয়ের পর একমাত্র ছেলে সন্তান জন্মের খবরে আনন্দে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন কাতারপ্রবাসী শহিদুল ইসলাম (৫০)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। জীবিকার তাগিদে কাতারে পাড়ি জমানো শহিদুল দেশে ফিরলেন ঠিকই, তবে জীবিত নয়, কফিনবন্দী হয়ে।

গত শনিবার দিবাগত রাতে কাতারে মারা যান শহিদুল ইসলাম। শুক্রবার ভোররাতে বিমানযোগে তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়। পরে বেলা ১১টায় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বামনডাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শহিদুল ইসলাম বামনডাঙ্গা গ্রামের মরহুম ডা. আজাহার আলী খানের ছোট ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাতারে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে বামনডাঙ্গা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে সর্বশেষ বাড়িতে এসেছিলেন শহিদুল। ছুটি শেষে কাতারে ফিরে যাওয়ার কয়েক মাস পর তিনি এক পুত্রসন্তানের বাবা হন। চার মেয়ের পর ছেলে সন্তান জন্ম নেওয়ায় পরিবারের সবাই আনন্দিত ছিলেন। কয়েক মাস পর ছুটিতে দেশে ফিরে সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর পরিকল্পনাও ছিল তার।

তবে সেই অপেক্ষার অবসান হওয়ার আগেই কাতারে থেমে যায় তার জীবন। বাবাকে দেখার আগেই ছোট্ট সন্তানটি হারায় বাবাকে।

স্বজনরা জানান, জীবদ্দশায় শহিদুল অত্যন্ত সজ্জন ও মিশুক মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তিনি চার কন্যা ও এক পুত্রসন্তান রেখে গেছেন। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা পাওয়ার আগেই ছোট ছেলেটির মাথার ওপর থেকে বাবার ছায়া সরে যাওয়ায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।

শুক্রবারের জানাজায় এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা, গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে এসে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/পাবনা/এমকে
ট্যাগ: পাবনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!