কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন প্রবাসী শহিদুল : এলাকায় শোকের ছায়া
বুকভরে ছোট্ট ছেলেকে কোলে নেওয়ার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল কাতারপ্রবাসী শহিদুল ইসলামের। জীবিকার টানে ভিনদেশে পাড়ি জমানো এই মানুষটি বাড়ি ফিরলেন ঠিকই, তবে জীবিত নন—কফিনবন্দী হয়ে। গত শুক্রবার ভোররাতে বিমানযোগে শহিদুল ইসলামের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছায়। প্রবাসী শহিদুল ইসলাম (৫০) গত শনিবার দিবাগত রাতে কাতারে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বামনডাঙ্গা গ্রামের মরহুম ডা. আজাহার আলী খাঁনের ছোট ছেলে । তিনি দীর্ঘ দিন ধরে কাতারে প্রবাসী ছিলেন।
তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে বামনডাঙ্গা গ্রামে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
.png)
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে তিনি শেষবারের মতো নিজ বাড়িতে এসেছিলেন। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার কয়েক মাস পর তিনি এক পুত্রসন্তানের বাবা হন। পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, কয়েক মাস পর তার ছুটিতে বাড়ি ফেরার কথা ছিল এবং চার মেয়ের পর ছেলে হওয়ার সুবাদে পরিবারের সঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তার আগেই প্রবাসের মাটিতে থেমে যায় তার জীবনপ্রদীপ।
শুক্রবার বেলা ১১টায় নিজ গ্রাম বামনডাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জীবদ্দশায় অত্যন্ত সজ্জন ও মিশুক ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন তিনি। তিনি চার কন্যাসন্তান ও এক পুত্রসন্তান রেখে গেছেন। ছোট্ট শিশুটির বুকভরে বাবার স্নেহ পাওয়ার আগেই চিরতরে চলে যাওয়ায় স্বজন থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষ গভীর শোকার্ত হয়ে পড়েন। তার শেষ বিদায় ও জানাজায় অংশ নিতে এসে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই জানাজা ও দাফনকাজে এলাকার বিশিষ্টজন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।