মাশকলাইয়ে স্বপ্ন বুনছে সিরাজগঞ্জের যমুনা চরের কৃষকেরা
যমুনা নদীবিধৌত সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলে এখন মাষকলাই চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পড়ে থাকা জমিতে স্বল্প খরচে এই ফসল আবাদ করে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত বছর মাষকলাই চাষে ভালো লাভ পাওয়ায় চলতি মৌসুমে এ ফসলের আবাদে কৃষকদের আগ্রহও বেড়েছে।
প্রতিবছরই যমুনার ভাঙন ও বন্যায় কাজিপুরসহ জেলার চরাঞ্চলের বিপুল পরিমাণ আবাদি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অনেক সময় দিশেহারা হয়ে পড়েন কৃষকেরা। বন্যার পর জমি দ্রুত কাজে লাগাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে বিভিন্ন ধরনের ফসল ও সবজি চাষ শুরু করেন তারা। তবে গত দুই বছর ধরে চরাঞ্চলের কৃষকদের কাছে মাষকলাই হয়ে উঠেছে অন্যতম সম্ভাবনাময় ফসল।
.png)
কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও আধুনিক চাষপদ্ধতি অনুসরণ করে নদীর পাড়ের উর্বর পলিমাটিতে মাষকলাই আবাদ করছেন কৃষকেরা। ফলে যমুনার পূর্বপাড়ের বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এখন দেখা মিলছে সবুজের সমারোহ। দিগন্তজোড়া চরে যতদূর চোখ যায়, মাষকলাইয়ের সবুজ গাছের দৃশ্য নজর কাড়ছে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার নয়টি উপজেলায় ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে মাষকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ ফসলের আবাদ সম্পন্ন করেছেন কৃষকেরা।
কৃষি বিভাগ জানায়, সাধারণত বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর জুলাই-আগস্ট সময়ে মাষকলাইয়ের বীজ বপন করা হয়। চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নে এ ফসলের আবাদ বেশি হয়। বন্যার পর এসব এলাকার অনেক জমি কিছুদিন পতিত পড়ে থাকে। সেই জমিতে মাষকলাই চাষ করে বাড়তি আয় করছেন কৃষকেরা।
কাজিপুর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের কৃষক সবুর মিয়া বলেন, ‘এ বছর দুই বিঘা জমিতে মাষকলাই চাষ করেছি। এ ফসলে খরচ কম, কিন্তু লাভ ভালো। সার ও পানির খরচও তুলনামূলক কম।’
ছরগিরিশ এলাকার কৃষক হান্নান বলেন, ‘নিজের তিন বিঘা জমির পাশাপাশি আরও এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে মাষকলাই চাষ করেছি। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।’
তেকানী এলাকার কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মাষকলাই চাষের পর একই জমিতে ধান আবাদ করলে ফলন ভালো হয়। বন্যার পর জমি এমনিতেই পড়ে থাকে। সেখানে কলাই চাষ করে বাড়তি আয় করা যায়। প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৭ মণ পর্যন্ত মাষকলাই পাওয়া যায়।’
কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, কৃষকেরা যাতে মাষকলাই চাষ করে বেশি লাভবান হতে পারেন, সে জন্য কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন বাড়াতে সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। ভালো ফলনের জন্য কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জের উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, চলতি মৌসুমে কাজিপুর, চৌহালী, সিরাজগঞ্জ সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে মাষকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের সরকারি প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।