বান্দরবানে আন্তর্জাতিক মেয়েশিশু দিবস পালিত, বাল্যবিবাহ বন্ধের আহ্বান
‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করুন, মেয়েশিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করুন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বান্দরবানে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মেয়েশিশু দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহযোগিতায় জেলা পরিষদের হলরুমে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা পরিষদের হলরুমে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভায় কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং মেয়েশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাঃ আবুল মনসুর, পরিষদ সদস্য লুসাই মং, ইউএনডিপির প্রতিনিধি সেলিম উদ্দিন ও সামিউল আলম এবং সংস্থাটির জেলা কর্মকর্তা সিং ম্যা প্রু। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেন।
আলোচনা সভায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, বাল্যবিবাহ মেয়েশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশের পথে বড় বাধা। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে অনেক মেয়েশিশুর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় এবং তাদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। এর নেতিবাচক প্রভাব পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নেও পড়ে।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা। তারা বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, মেয়েশিশুর অধিকার রক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের দক্ষতা ও প্রতিভা বিকাশে বিনিয়োগ করতে হবে। কন্যাশিশুরা যাতে বৈষম্য, নির্যাতন ও বাল্যবিবাহের শিকার না হয়, সে জন্য পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আয়োজকেরা মনে করেন, মেয়েশিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সম্ভাবনাময় পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে। এতে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একটি সচেতন, সমতাভিত্তিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।