ঢাকা,  মঙ্গলবার   ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

বাঁশের সিলিং বেড়া তৈরিতে সচ্ছলতা

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০১, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
বাঁশের সিলিং বেড়া তৈরিতে সচ্ছলতা
আখাউড়া পৌর শহরের রানিং রোম সংলগ্ন স্থানে বাঁশ দিয়ে তৈরি করছেন সিলিং বেড়া। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ নানা পেশায় কাজ করছে। এরমধ্যে অনেকে সফলতা পেয়েছে কেউ বা চেষ্টা করছে। এরইমধ্যে নলি বাঁশ দিয়ে বেড়া ও সিলিং তৈরি করে পরিবারে সচ্ছলতা এনেছে আব্দুল আওয়াল নামে এক কারিগর। তিনি টানা প্রায় ২৫ বছরের ওপর ধরে এ পেশায় কাজ করছেন। বাঁশের সিলিং, বেড়া তৈরি করে প্রতিমাসে আয় করছেন ১৫ হাজার টাকার ওপর। আর এতেই চলছে তার জীবিকা।  

আব্দুল আওয়াল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের রানিং রোম সংলগ্ন স্থানে বসে এ কাজ করছেন। তিনি উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজিরবাজার এলাকার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। বর্তমান আধুনিক এ যুগে এসবের ব্যবহার অনেকটা সীমিত হলে ও গ্রামাঞ্চলসহ নিম্নবৃত্ত লোকজনের কাছে এখনো যেন চাহিদার কমতি নেই।

আব্দুল আওয়াল বলেন, এক সময় আমার বাবা সিলিং ও বেড়ার কাজ করতো। বাবার সামান্য উপার্জনে সংসার চালানো কঠিন হওয়ায় সহযোগিতা করতে এ কাজ শেখা হয়। হঠাৎ বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের পুরো দায়িত্ব আমার ওপর এসে পড়ে। অন্য কোনো পেশার কাজ জানা না থাকায় জীবিকার প্রয়োজনে এটাকে পেশা হিসাবে নিয়ে কাজ শুরু করি। প্রথম কিছু দিন কষ্ট হলেও এখন আর কষ্ট হয় না। এলাকায় এ কাজের ভালো চাহিদা আছে।

তিনি বলেন, আমার এ কাজে কোনো সহযোগী নেই। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পযর্ন্ত  সিলিং ও বেড়া তৈরির কাজ করছি। এখানে মূলত ওইসব কয়েক প্রকারের তৈরি করলেও কাজের ওপর দাম নির্বারণ করা হয়। মান ভেদে প্রতি এক হাত নিচে ২০০ টাকা থেকে উপরে পাঁচশ টাকা নেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, বেড়া ও সিলিং তৈরি করতে প্রথমে বাঁশখণ্ড করতে হয়। তারপর খণ্ডগুলোকে পরিমাণমতো দা দিয়ে ছেঁচে পাতলা করে চটা বের করি। এরপর শীতলপাটির মতো লাগিয়ে সিলিং ও বেড়া তৈরি করছি। প্রতিদিন বড় আকারের একটি সিলিং বা বেড়া তৈরি করা যায়।  গরমের সময় বেড়া ও সিলিংয়ের ভালো চাহিদা থাকে। কারণ তাপ শোষণ করে তাপমাত্রা ঠিক রাখতে বাঁশের সিলিং সহায়ক। এটির তৈরির জন্য বিশেষ একধরনের বাঁশ ব্যাবহার করা হয়। অনেক সময় সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে রং দেওয়া হয়। বিভিন্ন রকমের রঙের আল্পনার ছোঁয়ায় ওই সবের সৌন্দর্য থাকে অন্য রকম। তবে রং দেওয়া নির্ভর করছে ক্রেতার ওপর। পরিশ্রম অনুযায়ী বর্তমান খুব একটা আয় হয় না। কারণ বাঁশসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে। আগে যেখানে ১০০ নলি বাঁশ ৩ হাজার টাকায় কেনা হতো, সেখানে বর্তমানে ১০ হাজার টাকার ওপর লাগছে। সেইসাথে পরিবহন খরচও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব তৈরি করে প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকার ওপর আয় করছি।

সরেজমিনে পৌর শহরের রানিং রোম-সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়, সকাল থেকেই বাঁশ, নলি, সুতলী, গুণা, তারকাটা,দা, হাতুরি দিয়ে আপন মনে বেড়া ও সিলিং তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তৈরি করা ওইসবের মধ্যে করছেন রং দেওয়ার কাজও।

স্থানীয় লোকজন জানায়, আধুনিক যুগে সিলিং ও বেড়ার ব্যবহার অনেকটা সীমিত হলেও গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে এর কদর এখনো রয়েছে। বাঁশ দিয়ে তৈরি বিশেষ এই বেড়া রোদের তাপ কমিয়ে দেয়। ফলে গরমে এটি ঘর ঠান্ডা রাখে। এছাড়া ঘরের সিলিং এরমধ্যে ওপরে অনেক জিনিসপত্র রাখা যায়। অনেকেই আবার এটিকে বলেন ‘গরিবের এসি’।

অটোরিকশাচালক আনোয়ার হাসেন বলেন, দৈনিক অটোরিকশা চালিয়ে কষ্ট করে সামান্য জায়গা কেনা হয়েছে। সেই জায়গাতে টিন দিয়ে একটি ঘর তৈরি করেছি। তবে ঘরের মধ্যে গরম বেশি হওয়ায় থাকা খুবই কষ্ট হচ্ছে। তাই সিলিং দিতে ৪০ হাত বেড়া এখান থেকে তৈরি করেছি। এ জন্য প্রতি এক হাত ২৫০ টাকা দিতে হয়েছে। এখন গরম কিছুটা কম লাগবে।

মোবারক হোসেন বলেন, পরিবারে স্ত্রী, ১ ছেলে ১ মেয়েসহ ৫ জন সদস্য রয়েছে। সবাই মিলে এক ঘরে থাকা খুবই কষ্টকর হয়ে উঠছে। তাই থাকার জন্য চারদিকে বেড়া আর উপরে টিন দিয়ে একটি ঘর তৈরি করতে ৬০ হাত বেড়া ক্রয় করি। এরপর মিস্ত্রী দিয়ে ঘরটি তৈরি করি। এখন আর থাকার কোনো কষ্ট হবে না। মনে হচ্ছে বেড়ার দাম অনেক বেড়েছে।

ঠিকাদার ইসমাঈল মিয়া বলেন, একটি রাস্তার মাটি ভরাটের কাজ করতে গিয়ে সেতুর উভয় সাইটে বেড়ার প্রয়োজন হয়। তাই ৭০ হাত বেড়া এখান থেকে তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য প্রতি হাতে ২০০ টাকা দিতে হয়েছে।  
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আখাউড়া/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!