গোয়ালন্দে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডবিষয়ক সচেতনতামূলক মহড়া, র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বিদ্যালয় মাঠ থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি গোয়ালন্দ বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিদ্যালয় মাঠে এসে শেষ হয়। পরে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের সময় করণীয় বিষয়ে মহড়া এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু বকর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস, উপজেলা আইসিটি বিষয়ক কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন, গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. ইয়াহিয়া, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অন্যান্য সদস্য, অত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে কীভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, সে বিষয়ে সবার ধারণা থাকা জরুরি। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের আগুন লাগলে করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে আতঙ্কিত না হয়ে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। তাড়াহুড়ো বা অসতর্কতার কারণে যেন ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া এবং প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা নেওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পরিবার থেকেই সচেতনতা গড়ে তোলা, ভূমিকম্পের সময় নিরাপদে অবস্থান করা, অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কে ধারণা অর্জন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতামূলক মহড়া আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, সম্মিলিত সচেতনতা, পূর্বপ্রস্তুতি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি ও প্রাণহানি কমানো সম্ভব।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও দুর্যোগসহনশীল সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।