ঢাকা,  বুধবার   ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

কাঠ ব্যবসার কথা বলে আটকে রেখে নির্যাতন, ছিনতাইয়ের অভিযোগ

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৩৭, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
কাঠ ব্যবসার কথা বলে আটকে রেখে নির্যাতন, ছিনতাইয়ের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন জান্নাতুল নাঈম। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ।

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে কাঠ ব্যবসার কথা বলে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং মোটরসাইকেল, আইফোন, স্মার্টওয়াচ ও নগদ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান মিজানসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা করে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী জান্নাতুল নাঈম। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী সদর বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন জান্নাতুল নাঈম। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পাড়া পাচাশী গ্রামের নুরুল হকের ছেলে।

লিখিত বক্তব্যে জান্নাতুল নাঈম দাবি করেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর কাঠ বিক্রির কথা বলে তাকে নালিতাবাড়ী পৌরশহরের আড়াইআনি বাজারের কালেমা চত্বরে ডেকে নেন মিজানুর রহমান মিজান। পরে স্থানীয় একটি কফি হাউসে নিয়ে তাকে কফি পান করানো হয়। সেখান থেকে কাঠ দেখানোর কথা বলে কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি সাত্তারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

তার অভিযোগ, ওই বাড়ির একটি কক্ষে মিজানসহ আরও চার-পাঁচজন তাকে আটকে রেখে মারধর করেন। এ সময় তার মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেওয়া হয়। মারধরে তার কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

জান্নাতুল নাঈম আরও দাবি করেন, নির্যাতনের মুখে তাকে মোবাইল ফোনের পাসওয়ার্ড দিতে বাধ্য করা হয়। পরে ফোনে থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে তার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের নেক্সাস পে অ্যাপের পাসওয়ার্ডও চাওয়া হয়।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, তার মানিব্যাগে থাকা এটিএম ডেবিট কার্ড, মায়ের ছবি, মোটরসাইকেলের স্মার্টকার্ড ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা এবং ব্যাগে থাকা আরও দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে এটিএম কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে জান্নাতুল নাঈম বলেন, তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এ ছাড়া জাপানপ্রবাসী ‘Angel Moon’ নামের একটি ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারী লিমা সাহার কাছ থেকে ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে তাকে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তাকে সে সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জান্নাতুল নাঈমের দাবি, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিট থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে রিপন নামের এক ব্যক্তি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প নিয়ে আসেন। ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর না করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তিনি আট থেকে নয়টি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন বলে দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে অন্য একটি মোটরসাইকেলে করে হালুয়াঘাট বাজারের বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে তাকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। সেখান থেকে এক চায়ের দোকানির ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জে নিজের বাড়িতে ফিরে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় মিজানুর রহমান মিজানসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে শেরপুরের আদালতে সিআর মামলা নম্বর ৮০৬/২০২৬ দায়ের করেছেন বলে জানান জান্নাতুল নাঈম। তার দাবি, আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, একই আদালতে জান্নাতুল নাঈমের বিরুদ্ধে সিআর মামলা নম্বর ৮৩৪/২০২৬ দায়ের করেছেন মিজানুর রহমান মিজান বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। মিজান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে আর্থিক লেনদেনের বিরোধ এবং পরিকল্পিত মামলা বলে দাবি করেছেন। গত ১৩ অক্টোবর মিজানের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে মনে করেন জান্নাতুল নাঈম।

সংবাদ সম্মেলনে জান্নাতুল নাঈম মামলাটির নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযোগে উল্লিখিত মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি জানান। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/নালিতাবাড়ী/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!