ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, নির্বাচনী বিরোধের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:০৭, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, নির্বাচনী বিরোধের অভিযোগ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহিরুল ইসলাম (৪৮) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

নিহত জহিরুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ার চর গ্রামের আব্দুর রহমান বেপারীর ছেলে। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জহিরুল ইসলামের সঙ্গে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোবারক হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল। আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়া নিয়ে তাদের বিরোধ আরও তীব্র হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। জহিরুল ইসলামের পাশাপাশি মোবারক হোসেনও একই পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন।

বুধবার রাতে চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় নিজের ফার্মেসির দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন জহিরুল ইসলাম। পথে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তার পথরোধ করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ভাগনে ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, এর আগেও তার মামাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তার ওপর দুই দফা হামলা হয়েছিল। কালাপাহাড়িয়া এলাকার রাজনৈতিক নেতা মোবারক হোসেনের সঙ্গে তার মামার বিরোধ ছিল। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকায় মোবারক পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব খোরশেদ আলম বলেন, জহিরুল ইসলাম যুবদলের একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। তার বাড়ি কালাপাহাড়িয়ায় হলেও তিনি সোনারগাঁয়ে বসবাস করতেন। ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাকে হত্যা করেছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন। জহিরুল প্রায়ই তাকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা বলতেন বলেও জানান খোরশেদ আলম।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোবারক হোসেনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় জহিরুল ইসলামের একটি ফার্মেসির দোকান রয়েছে। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে এখনো আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!