খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশেষ সুবিধা ও কম দরে পণ্য ছাড়ের কারণে অপ্রচলিত বাজারে রফতানি বাড়ছে। তবে তা ক্রেতা দেশগুলোর চাহিদার তুলনায় কম।
ম্যানমেইড ফাইবারে সক্ষমতা কম থাকায়, অধিকাংশ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে অপ্রচলিত বাজারে রফতানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
.png)
তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ বলছে, বর্তমানে দেশের প্রচলিত ও প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। এসব বাজারে পোশাক রফতানির পরিমাণ বেশি। এসব বাজারের বাইরের দেশগুলোকে অপ্রচলিত বা নতুন বাজার হিসেবে দেখা হয়। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, চীন, রাশিয়া, আরব আমিরাত, কোরিয়া ও ভারতে রফতানি বেশি।
চীন অনেক বাজার থেকে সরে এসেছে। তারা নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে কিছু বাজার থেকে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা সেসব বাজারে আস্থা অর্জন করছে। জাপান থেকে সরে গেছে চীন। সেখানে যে গ্যাপ তৈরি হয়েছে সেটা পূরণের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। এভাবে সুযোগ তৈরি হয়েছে অপ্রচলিত বাজারে। রফতানিও বাড়ছে, আগামীতে আরো বাড়বে।
হিসাব বলছে, ২০২৩ সালে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রফতানি ছিল ৮৮৭ কোটি ডলার। এরমধ্যে শুধু জাপানেই রফতানি হয় ১৬৭ কোটি ডলারের পণ্য। যা বছর ব্যবধানে বাড়ে ২৬ শতাংশের ওপরে।
জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার শহিদ বলেন, এই এক্সপোর্টটা খুব ছোট আইটেম। জাপানে আরো ছোট আইটেম। কিন্তু কোয়ালিটি আছে। তবে মার্কেট অ্যালাইনমেন্ট বুঝে নিতে সময় লাগছে।
জাপান ছাড়াও সাফল্য ছিল অস্ট্রেলিয়া, চীন এমনকি ভারতের বাজারেও। বিশেষ করে, গেল বছর প্রতিবেশী দেশটি বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনে প্রায় ৯২ কোটি ডলারের। এই বাজারগুলোতে কৃত্রিম তন্তুর তৈরি পোশাকের চাহিদা বেশি থাকায় সম্ভাবনার খুব কম অংশই দখলে নিতে পারছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিকেএমই নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ম্যানমেইড ফাইভারের কারণে আমরা হাই এভিলুট আইটেমগুলোয় যেতে পারছি না। ফ্যাশনেবল আইটেমে যেতে পারছি না। যেটা ওয়ার্ল্ডে এখন বেশি ডিমান্ড। এটার ৭৫ শতাংশ ডিমান্ড।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হলো সরকারের। উদ্যোক্তা তো সবসময় রেডি থাকে উদ্যোগী হওয়ার জন্য। একটা ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে হলে সাপোর্ট দিতে হবে। একটা টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি দুই বছরের আগে কখনো প্রোফিটে যেতে পারে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে আরো টেকসই করতে বিকল্প নেই পণ্য ও বাজার বৈচিত্র্যের।
রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের র্যাপিড চেয়ারম্যান ড. এমএ রাজ্জাক বলেন, একটা জায়গায় সুযোগ আছে, তা হলো দেনদরবার করা। এখন যে সুবিধাগুলো আমরা পাচ্ছি, এই সুবিধাগুলো যেন আমরা দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারি।
২০২৩ সালে তৈরি পোশাক থেকে মোট আয় ছিল ৪ হাজার ৭৩৯ কোটি ডলার। অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাকের রফতানি বাড়লেও তা সুযোগের খুব সামান্য বলা চলে। ম্যানমেইড ফাইবারের ব্যবহারে ঘাটতির কারণে বৈশ্বিক ক্রেতাদের বড় অংশকে আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না। তাছাড়া বিভিন্ন দেশে পণ্য পরিচিতি ও আস্থার দিক থেকে ঘাটতি রয়ে গেছে এখনো। তাই যৌথ প্রচেষ্টা দরকার সরকার ও খাত সংশ্লিষ্টদের।