সম্প্রতি সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বাংলাদেশের নেয়া ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের তৃতীয় কিস্তি প্রদানের আগে অগ্রগতি পর্যালোচনার সময় আইএমএফ’র প্রতিনিধিদল এ প্রতিবেদন চায়।
গত ২৮ এপ্রিল বৈঠকে প্রতিনিধি দল ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা এবং পরিদর্শন প্রতিবেদন গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করতে বলে। একই সঙ্গে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ঋণ কেলেঙ্কারি রোধে পরিদর্শনের সংখ্যা বাড়ানোর তাগিদ দেয় প্রতিনিধি দল।
.png)
বৈঠকে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বড় ঋণ কেলেঙ্কারিসহ নানা অনিয়মের কারণে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বাড়ছে। বেশ কয়েকটি ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও তা স্বীকার করেছেন।
তাই সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোতে মানুষের আমানতও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মনে করছে আইএমএফ। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন গ্রাহকদের সামনে প্রকাশ করার পরামর্শ দিয়েছে বৈশ্বিক এ ঋণদাতা।
আগামী অর্থবছর থেকে রাজস্ব আহরণ ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভ্যাট ও আয়কর অব্যাহতি বাতিলের সুপারিশ করেছে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। অন্তত ৩৩টি শিল্প ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন হারে কর রেয়াত সুবিধা ভোগ করছে।
ঢাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বৈঠকের সময়, আইএমএফের প্রতিনিধি দল ৩ কোটি টাকার বেশি বার্ষিক টার্নওভারসহ সমস্ত ব্যবসার উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ এবং তাদের ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।
জিডিপির একটি অংশ হিসেবে বাংলাদেশের রাজস্ব সংগ্রহের হার খুবই কম এবং সমমানের দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যা সরকারি বিনিয়োগ এবং সামাজিক খাতে ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক অবস্থাকে উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস করেছে।
আইএমএফ’র প্রতিনিধি দলটি পরবর্তী বাজেটে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সংস্কারের জন্য বাংলাদেশের কাছে সুপারিশও করেছে এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে আরো বেশি রাজস্ব আদায় করতে নতুন ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: ডিডিনিউজ