যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, তাদের হিসাবে গ্রস বা মোট রিজার্ভ ২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেয়া সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের কারণে সামনে রিজার্ভ পরিস্থিতি আরো ভালো হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্য মোট ২৩ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ দাবি করলেও আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল বা আইএমএফের হিসাবে রিজার্ভ আছে ১৮ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।
.png)
কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন দুটি পদ্ধতিতে রিজার্ভ হিসাব করে থাকে। একটি হচ্ছে গ্রস বা মোট, অর্থাৎ যে পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা হাতে আছে, যা এখন ২৩.৭৭ বিলিয়ন ডলার। আরেকটা হচ্ছে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের পদ্ধতি- বিপিএম৬। সে অনুযায়ী এখন রিজার্ভ ১৮.৩২ বিলিয়ন।
রিজার্ভ কমে যাওয়ার বিষয়ে বিআইবিএম-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, যদি দুই-তিন বছর ধরে রিজার্ভ কমে যাওয়ার কারণ ধরি তবে দেখা যায় ক্যারেন্ট অ্যাকাউন্ট কমে গেছে। কারেন্ট অ্যাকাউন্ট একটি দেশের আয় এবং বিদেশে ব্যয় পরিমাপ করে। অন্যদিকে বাণিজ্যের ভারসাম্য, নেট প্রাথমিক আয় বা ফ্যাক্টর আয় যাকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিয়োগকৃত অর্থপ্রদানের ওপর আয় বলা হয়। সেই আয়টি অনেক কমেছে। তাছাড়া রেমিট্যান্সও অনেক কমেছে। যদি প্রধান কারণ বলি- তবে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টে ঘাটতি দেখা গেছে। বাংলাদেশ কখনো এ সমস্যার সম্মুখীন হয়নি।
তিনি আরো বলেন, এ ঘাটতির পেছনে একটি কারণ অনেকের চোখে ভাসছে। সেটি হলো দেশের টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। রফতানি করার পর যে টাকাটা থাকছে সেটা আর দেশে আসছে না। ডলার ঘাটতি কমাতে হলে এ টাকা দেশে আনতে হবে। তবে সরকার চেষ্টা করছে এ ঘাটতি থেকে বের হতে। কেন ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট কমছে, রেমিট্যান্স কী করে আরো বাড়ানো যায়- সে বিষয়েও সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। উন্নতিও হচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়।
রফতানির পর ডলার ফেরত আসছে না, এটা আসলে কী প্রক্রিয়ায় হচ্ছে- এমন এক প্রশ্নে তিনি বলেন, কী প্রক্রিয়ায় হচ্ছে এবং এটা আনার ব্যবস্থা কে নেবে- তা সরকার জানে। এছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনি ব্যবস্থাকে আরো কঠোর হতে হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি মানিলন্ডারিং হয় ট্রেড-বেজ। এখানে দৃষ্টি দিতে হবে। রফতানিকারকদের ভেতর দেশে টাকা না আনার প্রবণতা আছে। অন্যদিকে দেশে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আবার অনেকে ইচ্ছা হলেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, যতটা না উৎপাদনে খরচ হচ্ছে। ফলে এটার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সমন্বয় হচ্ছে না বলে মনে করি। এখানেও ডলারের কারসাজি আছে। দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কারণে ডালারে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ডলারের দাম নির্ধারণ করা।
ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী আরো বলেন, এই দেশের অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যারা বাইরের বিনিয়োগকারীদের বলছেন- তুমি দাম দশ টাকা বেশি নেও। এতে টাকাটা দেশের বাইরে চরে যাচ্ছে। সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইমপোর্ট এক্সপোর্টের খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এই ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য একটাই- টাকা দামের বাইরে পাঠানো। আমি মনে করি এই সংকট কাটাতে ট্রেড-বেজ মানিলন্ডারিং কমাতে হবে। ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট ও রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে।