‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ শীর্ষক জুন মাসের প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এদিকে প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে। প্রাথমিক হিসাবে বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গতি কমবে।
.png)
এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ; ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। সংস্থাটির হিসাবে ২০২১-২২ অর্থবছরের পর টানা দুই অর্থবছর বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ৬ শতাংশের নিচে।
বিশ্বব্যাংক জানায়, আমদানি নিয়ন্ত্রণ থাকায় বাংলাদেশে শিল্প-কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি কেনাকাটা ও বিনিয়োগের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু উচ্চমূল্যর কারণে মানুষের প্রকৃত মজুরি ও পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এতে ব্যক্তি মানুষকে ভোগের রাশ টানতে হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সরকার দফায় দফায় নীতি সুদহার বৃদ্ধি করায় ঋণের সুদহার বেড়েছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে; টান পড়ছে সমাজের চাহিদায়।
দেশের ব্যাংকিং খাতে যে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ তৈরি হয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়েছে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। মূল্যস্ফীতির হার কমে এলে ব্যক্তিপর্যায়ের ভোগ কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগেও গতি আসবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় আগামী অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে ভারতের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ও ভুটানের একই হারে অর্থাৎ ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে। এ ছাড়া নেপালের ৪ দশমিক ৬ ও পাকিস্তানের ২ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে যেসব বাধা আসতে পারে, বিশ্বব্যাংক সে বিষয়ে বলেছে, বিশ্বায়িত পৃথিবীতে এক দেশের সমস্যা কেবল সেই দেশেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অর্থাৎ বাংলাদেশের বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমলে তার নেতিবাচক প্রভাব থেকে বাংলাদেশও মুক্ত থাকবে না।