সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিল-বন্ড থেকে সরকার মাত্রাতিরিক্ত ধার নিলে তা প্রভাব ফেলতে পারে আর্থিক ব্যবস্থাপনায়।
.png)
আমানত গ্রহণ ও ঋণ বিতরণের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের হয়ে ট্রেজারি বিল-বন্ডও বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় মালিকানার রূপালী ব্যাংক। তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে তাদের মাধ্যমে এই কার্যক্রম করতে, বিজনেস পার্টনার বা বিপি একাউন্ট খোলেন ১১৭ জন গ্রাহক। অথচ এক বছর আগেও তা ছিল শূন্য।
শুধু রূপালী ব্যাংক নয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও এই হিসাব খোলার প্রবণতা বেড়েছে জোরালোভাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৩ সালের জুনে ৩ হাজার ৬৫৮ টি হিসাব থাকলেও ২০২৪ এর জুনে তা ছাড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৭৪ টি। মূলত উচ্চ সুদহার ও নিরাপত্তার কারণেই এদিকে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ। কেননা বর্তমানে তিন মাস মেয়াদে ট্রেজারি বিলে মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আর দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডে তা ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ। যা ব্যাংক থেকেও বেশ খানিকটা ওপরে।
২০২০ সালের জুনে ৬৬ হাজার ২০০ কোটি টাকার ট্রেজারি বিল বিক্রি হলেও গেল চার বছরে তা বেড়েছে আড়াইগুণ। প্রায় একই হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ট্রেজারি বন্ডেও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সুদহার নয়, আস্থার অভাবেই ব্যাংক বিমুখ হচ্ছেন আমানতকারীরা। এই প্রবণতা সামষ্টিক অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, মানুষ ব্যাংককে ভরসা করতে পারছে না। তাই টাকা রাখছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রাইভেট সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সরকারি ঋণ বাড়ছে, দেশিও ঋণও বাড়ছে। এটি কিন্তু সামষ্টিক অর্থনীতি ভারসাম্যে হুমকি স্বরূপ।