ঢাকা,  শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ অর্থনীতি ]

চীনে পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য স্থায়ী জায়গা পাচ্ছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭:৩১, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চীনে পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য স্থায়ী জায়গা পাচ্ছে বাংলাদেশ
সংগৃহীত ছবি

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহর কুনমিংয়ে বাংলাদেশি পণ্যের প্রদর্শন ও সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী কেন্দ্র ও গুদাম পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। চীনের ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে (ইপিবি) বিনা মূল্যে প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের একটি প্রদর্শনকেন্দ্র এবং এর পাশে আরও প্রায় ২ হাজার বর্গফুটের গুদাম দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে চীনের বাজারে সারা বছর বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, কুনমিংয়ের একটি বিপণিবিতানে বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য এ জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। একই বিপণিবিতানে কয়েকটি দেশের পণ্য প্রদর্শনের জন্যও স্থায়ী জায়গা রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের বিভিন্ন শহরে পণ্য পাঠাচ্ছে।

Advertisement

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, প্রদর্শনকেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই প্রদর্শনকেন্দ্রটি চালু করার আশা করছেন তারা।

ইপিবির কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের মে মাসে ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের লানচাং-মেকং উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উন্নয়ন কেন্দ্রের উপপরিচালক লিউ জিয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে। সে সময় ইপিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য বিনা মূল্যে একটি স্থায়ী কেন্দ্র ও গুদাম দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

পরে গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের ইউনান প্রদেশের টংদে কুনমিং প্লাজায় আয়োজিত ফল উৎসবে স্থায়ী পণ্য প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম স্থাপনের বিষয়ে ইপিবি ও ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সই হয়। ওই ফল উৎসবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নয়জন ফল উৎপাদক ও রপ্তানিকারকের একটি দল অংশ নেয়।

ইপিবি জানিয়েছিল, বিনা ভাড়ায় প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম সুবিধার পাশাপাশি ইউনানের নির্ধারিত অনলাইন কমোডিটি সিটিতে বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগও পাবেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা। এর মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডিজিটাল বিপণন প্ল্যাটফর্মে পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে। তাজা ও দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্য দ্রুত শুল্ক খালাসের সুবিধাও পাওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম বলেন, কুনমিংয়ে স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম বরাদ্দের বিষয়টি চীনের রাষ্ট্রদূত তাঁকে নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মতে, এটি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য একটি বড় সুযোগ। গত বছর চীন সরকারের কাছে সাতটি স্থানে স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদামের অনুরোধ করা হলেও আপাতত একটি জায়গা পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

চীনের বাজারে কোন ধরনের পণ্যের সম্ভাবনা রয়েছে—এ বিষয়ে খোরশেদ আলম বলেন, চীনে যেসব পণ্যের উৎপাদন কমে যাচ্ছে বা কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেসব পণ্য বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে চীনের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার চীন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৯৬ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে চীন থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ২ হাজার ২১৪ কোটি ডলারের পণ্য। বিপরীতে চীনে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৮২ কোটি ডলারের পণ্য। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে।

বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীন ২০২০ সালে ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা চালু করে। পরে ২০২৪ সালে প্রায় সব পণ্যের জন্য এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়। তবে শুল্কসুবিধা থাকা সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য এখনো মূলত আমদানিনির্ভর।

ইপিবির কর্মকর্তারা জানান, গত জুনে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কুনমিংয়ে প্রস্তাবিত পণ্য প্রদর্শনকেন্দ্র ও গুদাম পরিদর্শন করেছেন। যে বিপণিবিতানে বাংলাদেশকে জায়গা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে চীনের পাইকারি ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, কুনমিংয়ে স্থায়ী প্রদর্শনকেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ। এর মাধ্যমে চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের পরিচিতি ও রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।

কোন কোন পণ্য সেখানে প্রদর্শন করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইপিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চীনের বাজারে চাহিদাসম্পন্ন পণ্য নির্বাচন করা হবে এবং দেশটির নির্ধারিত কমপ্লায়েন্স ও মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে পণ্য প্রদর্শন করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআর/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!