ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ অর্থনীতি ]

দেশের ৮৪ শতাংশ শ্রমশক্তি অনানুষ্ঠানিক খাতে: বিশ্বব্যাংক

মো. আশিকুর রহমান মো. আশিকুর রহমান
প্রকাশিত: ১২:৫৭, ৩ নভেম্বর ২০২৬
দেশের ৮৪ শতাংশ শ্রমশক্তি অনানুষ্ঠানিক খাতে: বিশ্বব্যাংক
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের শ্রমশক্তির প্রায় ৮৪ শতাংশ বা ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের পরও আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা মিলছে না। দেশের স্নাতকদের প্রায় ৪৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত।

অন্যদিকে আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মসংস্থান বাড়ছে ধীরগতিতে। সাম্প্রতিক সময়ে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোতে গড়ে কর্মীর সংখ্যাও কমেছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সামনে বিপুল তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এ সুযোগের সময় দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। ২০৪৫ সালে বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে হাতে রয়েছে প্রায় দুই দশক।

জনমিতিক লভ্যাংশের সুফল পেতে কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা জরুরি বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০৪৯ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া বার্ধক্যপ্রবণ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। তখন এ অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। বাংলাদেশে একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে ২০৫১ সালে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে। তাই এখনই উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং বার্ধক্য মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ এখনো অনুকূল বয়স কাঠামোর সুবিধাকে কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। দেশে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত, শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ কম এবং মানবসম্পদ উন্নয়নেও ঘাটতি রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেম বলেন, উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তরুণদের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন এবং নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের বাধা দূর করতে হবে। পাশাপাশি প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা ও আয়নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এখন থেকে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ১৭ শতাংশ পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখে। অন্যদিকে প্রবীণদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ পেনশন সুবিধা পান।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে অর্থায়ন এবং নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!