জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘র্যাগ ডে’ যেভাবে হয়
শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকানোর পর শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান করা হয়। জাঁকজমকপূর্ণভাবে নাচ, গান, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। মূলত এই শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানকে ‘র্যাগ ডে’ বলা হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে এ ‘র্যাগ ডে’ পালন করা হয়ে আসছে।
ব্যতিক্রমী কিছু উদ্যোগের কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ‘র্যাগ ডে’ দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
.png)
মূলত জাবিতে একটি ব্যাচের অনার্স ও মাস্টার্স শেষ হলে ব্যাচের সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘র্যাগ ডে’ আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। এজন্য একটি মূল কমিটি গঠিত হয়। মূল কমিটি থেকে কিছু ধাপ পর্যালোচনা করে উপকমিটি গঠিত হয়। এর আগে, শুরুতেই একজন আহ্বায়ক ও একজন কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। ক্রমে দুইজন করে সদস্য নিয়ে হল কমিটি, স্পন্সর কমিটি গঠন করা হয়।
এ ছাড়া ‘র্যাগ ডে’ উদযাপনের মূল আকর্ষণ হল রাজা-রানি নির্বাচন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আগেই রাজা-রানি নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়। পরে এই রাজা-রানিকে ঘিরেই পরবর্তী কর্মসূচি আবর্তিত হয়।
পরে মূল অনুষ্ঠানে জাবির সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নিজস্ব পরিকল্পনা ও পরিবেশনায় এই সাংস্কৃতিক পর্বের আয়োজন করেন। এ জন্য একটি সাংস্কৃতিক কমিটিও গঠিত হয়। নাচ, গান, আবৃত্তি, র্যাম্প, অ্যাক্রোবেটিকসহ বিভিন্ন আয়োজনে সাংস্কৃতিক পর্ব সাজানো হয়। এতে নির্বাচিত রাজা-রানির পারফরমেন্স থাকে।
রাজা-রানী নির্বাচন যেভাবে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) র্যাগ ডে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ রাজা-রানী নির্বাচন। এ পদে অংশ নিতে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন ফর্ম কিনতে হয়। তবে ক্যাম্পাসে অত্যন্ত পরিচিত মুখরাই এ পদে আগ্রহ দেখায়। এছাড়া বেশ কিছু গুণাবলীর সমন্বয়ে রাজা-রানি নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া যায়।
পোস্টারিং, ক্যাম্পেইন, লিফলেট, ভোট চাওয়ার মাধ্যমে এ নির্বাচনের প্রচারণা প্রায় ১৫-২০ দিন পর্যন্ত চলে। এরপর নির্ধারিত দিনে নির্বাচন হয়। সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় ব্যাপার হল রাজা-রানী প্রার্থীদের বর্ণাঢ্য রিকশা শোভাযাত্রা।
র্যাগার ব্যাচের প্রত্যেক শিক্ষার্থীই ভোটার হিসেবে একজন রাজা এবং একজন রানীকে ভোট দেন। নির্বাচন কমিশনারের তত্ত্বাবধানে ভোট গ্রহণ ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে একজন রাজা ও একজন রানী নির্বাচিত হন।
তবে সপ্তম ব্যাচ থেকে জাবিতে মৌখিক বা সিলেকশনের মাধ্যমে রাজা-রানী নির্বাচন হতো। সবাই চেনে, জনপ্রিয় বা চোখে পড়ে এমন কাউকে নেওয়া হতো। জাবির ২৭তম ব্যাচ থেকে ভোটের মাধ্যমে রাজা-রানী নির্বাচন শুরু হয়।
এ ব্যাচের রাজা ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আহমেদ শরীফ সানি এবং রানী ছিলেন আইবিএর তানি। এরপর থেকেই এই প্রক্রিয়া রাজা-রানি নির্বাচিত হয়।
‘র্যাগ ডে’র একাল-সেকাল
জাবিতে শুরু দিকে স্নাতক পর্যায়ে ক্লাস শেষের দিনে র্যাগ পালিত হতো। তবে বর্তমানে ন্যূনতম ৩ দিন র্যাগ উদযাপন করা হয়। মূলত স্নাতক শেষ হওয়ার পর থেকেই এই আয়োজন শুরু হয়। এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় কোন সহায়তা দেয় না। তাই চাঁদার মাধ্যমেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো স্পন্সর করার জন্য এগিয়ে আসছে। কয়েক মাসের ফান্ডিং দিয়ে এ আয়োজন করা হয়। র্যাগার ব্যাচ থেকে মুভি ফেস্টিভ্যালসহ ছোট ছোট কিছু আয়োজনে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এরপর চলে ব্যাচ লগো ও শ্লোগান আর্টের কাজ। এছাড়া ব্যাচের বাঁশ ও ছন দিয়ে র্যাগার ব্যাচের টেন্টও বানানো হয়। এতে র্যাগার ব্যাচের আড্ডা চলে। এভাবে ক্রমশই মূল আয়োজন আনুষ্ঠানিকতা পায়।