বাংলা নববর্ষকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি
‘আর মাত্র চারদিন পর আসছে বাংলা বছরের প্রথম দিন। পুরনো দিনের দুঃখ, গ্লানি, হতাশা দূর করে আসবে নতুন ভোর। যে ভোরে উদিত হবে নতুন সূর্য। মুছে যাবে সব জঞ্জাল। নব উদ্যমে সাজবে পৃথিবী। সেই নতুন পৃথিবী সাজাতে আমাদের বর্ষবরণ আয়োজন। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, মুছে যাক গ্লানি/ ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’
বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত এক শিক্ষার্থী বলছিলেন এভাবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রং-তুলির আঁচড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাঙিয়ে তুলছে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজনকে। করোনার কারণে গত দুই বছর বিরতির পর এবার ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হবে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।
.png)
জানা যায়, পহেলা বৈশাখ উদযাপনে প্রতি বছরই চারুকলা বিভাগের নানা আয়োজন থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। বর্ষবরণ সফল করতে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছে বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের গাহি সাম্যের মঞ্চ ও চারুকলা বিভাগ ঘুরে দেখা যায় চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ।
দেখা যায়, বিভাগের শিক্ষার্থীরা বৈশাখের মূল আকর্ষণ বাংলার বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যকে পরিবেশন করতে লোকজ ঐতিহ্যবাহী মুখোশ, পেঁচার মুখ, হাতি, বাঘ, পোস্টার ম্যাশ তৈরি করছে। এছাড়াও অশুভ শক্তিতে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে মঙ্গল শোভাযাত্রায় ব্যবহারের জন্য মুখোশ, ব্যানার-ফেস্টুন তৈরি করা হচ্ছে।
চারুকলা বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী মুবিন বলেন, আমি যতদূর জানি, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিগত দুই বছর বর্ষবরণ স্থগিত ছিল। আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় যে ক্যাম্পাসে এসেই বাঙালির ঐতিহ্য নববর্ষ বরণ কাজের সুযোগ পাচ্ছি। এর মাধ্যমে আমরা নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। নতুন ধরনের কাজও শিখছি।
বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী কৌশিক বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের জন্য আমরা কয়েকদিন ধরেই কাজ করছি। এ কাজে আমি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী হিসাবে অনেক আনন্দ পাচ্ছি, কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।
এবারের বৈশাখী আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজক কমিটির সভাপতি ড. সিদ্বার্থ দে বলেন, এবার আমরা লোকজ ঐতিহ্যবাহী মুখোশ, প্যাঁচার মাস্ক, মুখোশ, হাতি, বাঘ, পোস্টার ম্যাশ, রিকশা টানাসহ বিভিন্ন ধরনের মুখোশ তৈরির হাতের কাজের আয়োজন করেছি। এখন চলছে রং করার কাজ। এত সুন্দর কাজ করার পেছনে সম্পূর্ণ অবদান আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের। ওদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এত কিছু সুন্দর ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে।