ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

৫২ বছরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র পাঁচ সমাবর্তন!

জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৩১, ২৪ এপ্রিল ২০২২
৫২ বছরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র পাঁচ সমাবর্তন!
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠার ৫২ বছরে মাত্র পাঁচবার সমাবর্তনের দেখা পেয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অথচ ‘নিয়ম’ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছরই সমাবর্তন হওয়ার কথা।

এর আগের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম সমাবর্তন আয়োজনের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। তবে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম এ বছরেই সমাবর্তন আয়োজনের কথা বলছেন।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। এরপর চার বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন সমাবর্তনের কোনো উদ্যোগ এখনো নেয়া হয়নি। অথচ এই চার বছরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন ৪০তম থেকে ৪৫ তম ব্যাচের প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বেশ কিছু বিভাগের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদেরও স্নাতক সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া পঞ্চম সমাবর্তনে ৩৯ ব্যাচের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী স্নাতকোত্তরের সনদ পাননি। ফলে ৩৯তম থেকে ৪৬ তম ব্যাচের অন্তত ১৪ হাজার শিক্ষার্থী ষষ্ঠ সমাবর্তনের গাউন পরার অপেক্ষায় আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫২ বছরে মাত্র পাঁচ বার সমাবর্তন অনুষ্ঠান হওয়ায় এ নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য আসায় আশা দেখছেন তারা। সমাবর্তন অনুষ্ঠান নিয়মিত না হওয়ার পেছনে কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, প্রশাসন চাইলেই সমাবর্তন অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজন করতে পারে।

আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী বিপ্লব কান্তি বলেন, জাবিতে ভর্তির পর থেকে শুধু অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন দেখেছি। আমরা চাই দ্রুত একটি সমাবর্তন আয়োজন করে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণ করা হোক।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৭০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পর অর্থাৎ ১৯৯৭ সালে প্রথম সমাবর্তন গাউন পরার সুযোগ মেলে শিক্ষার্থীদের। ওই বছরের ৫ জানুয়ারি প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম চৌধুরী। সেবার চার হাজার ৪৮৪ জন গ্র্যাজুয়েট, এম.ফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থী সনদ পান।

পরবর্তীতে ২০০১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল বায়েসের সময়ে অনুষ্ঠিত ওই সমাবর্তনে সনদ পান পাঁচ হাজার ১২ জন গ্র্যাজুয়েট, এম.ফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থী। এর পাঁচ বছর পরে ২০০৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান। সেবার সমাবর্তনে চার হাজার ৩৮৩ জন গ্র্যাজুয়েট, এম.ফিল ও পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থী সনদ পান।

এরপর ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের সময়ে অনুষ্ঠিত ওই সমাবর্তনে তিন হাজার ৯৪৯ জন গ্র্যাজুয়েট, এম.ফিল ও পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থী সনদ পান। সর্বশেষ উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সময়ে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সমাবর্তনে সনদ পান নয় হাজার গ্র্যাজুয়েট, এম.ফিল ও পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থী।

তবে চলতি বছরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলম।

তিনি বলেন, সমাবর্তন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আশা করছি, চলতি বছরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ সমাবর্তন আয়োজন করতে পারবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!