ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

চবির মায়া বৃদ্ধি করে দেয় ‘স্মরণ চত্বর’

চবি প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৭:১৭, ১৩ জুন ২০২২
চবির মায়া বৃদ্ধি করে দেয় ‘স্মরণ চত্বর’
কত আবেগ-অনুভূতি এবং উচ্ছ্বাস জমে থাকে এই স্মরণ চত্বর ঘিরে! 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পড়াশোনা শুরু এবং শেষে একজন শিক্ষার্থী যখন নিজ গন্তব্যে চলে যায় তখনই মায়া বৃদ্ধি করে দেয় ‘স্মরণ চত্বর’। কত আবেগ-অনুভূতি এবং উচ্ছ্বাস জমে থাকে এই স্মরণ চত্বর ঘিরে! 

যারা সবুজ পহাড় আর প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র ঘেরা এই চট্টগ্রাম বিশ্ববিবদ্যালয়ে পড়তে আসেন। তাদের তখন মূল ফটক পেরিয়ে কয়েক কদম সামনে এগুলেই যে ভাস্কর্যটি চোখে পড়বে সেটিই এই চত্বর।

আগের নাম ছিলো ‘জিরো পয়েন্ট’। মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদদের স্মরণে এই ‘জিরো পয়েন্টে’ ভাস্কর্য নির্মাণের পর নাম রাখা হয় ‘স্মরণ’ চত্বর। দিন-রাত, সকাল-সন্ধ্যা, আড্ডামুখর পরিবেশ থাকে এই ‘স্মরণ চত্বরে’। সবচেয়ে বেশি আড্ডাগুলো জমে থাকে ঠিক সন্ধ্যায়। 

Advertisement

হাজারো শিক্ষার্থী এবং অতিথিদের পদচারণায় স্মরণ চত্বর হয়ে উঠে একটি কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ। চত্বরের চারপাশে ঠিক সন্ধ্যায় ফল, বাদাম, শীতের পিঠা, ঝালমুড়ি এবং চটপটি-ফুসকা ইত্যাদির ভ্রাম্যমাণ দোকান বসে। 

আর সন্ধ্যা নামলেই সারাদিনের ক্লান্তি শেষে শিক্ষার্থীরা দলবেধে আড্ডা/গল্প করার জন্য জন্য ছুটে আসেন। কারো হাতে থাকে গানের যন্ত্রাংশ, কেউ কেউ খালি গলায় গান গায়। কখনো কখনো যৌথ গানের সুর কানে আসে। কেউ আড্ডায় মজে থাকে, কেউ কেউ আবার  
ভ্রাম্যমাণ দোকানে ভিড় জমিয়ে খাওয়া আড্ডা দুটোতেই মজে যান। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনে থেকে কিংবা ক্লাসের পাঠ চুকিয়ে শিক্ষাজীবনের শেষ গণ্ডিতে পা দেয় তখনো ‘স্মরণ চত্বর’ হয়েই রওয়ানা দিতে হয়। 

দিনের বেলায় ক্লাস চলাকালীন সময়ে মনে হবে স্মরণ চত্বর যেন একটি মহাসড়ক। স্মরণ চত্বর রুপ নেয় একটি ব্যস্ত রাস্তার মতো। ক্ষাণিক পর পর বাস, গাড়ি, মোটরসাইকেল, সিএনজি আর রিকশার যাতায়াত দেখলে মনে হবে স্মরণ চত্বরও একটি বিশ্বরোড।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রানা শারমিলা রাফা বললেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যাতায়াত মুখেই চবির ‘স্মরণ চত্বর’টির অবস্থান। স্মরণ চত্বরের চারদিকে ছুটে গিয়েছে চারটি রাস্তা অর্থাৎ স্মরণ চত্বরটি চার রাস্তার মোড়ে অবস্থিত। এই চারটি রাস্তা ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা স্থান ভ্রমণ করা যায়। শাটল বা বাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছে স্মরণ চত্বর থেকেই রিকশা/ সিএনজি করে ডিপার্টমেন্টে যেতে হয়। ক্লাস চলাকালীন সময়ে স্মরণ চত্বরটিতে শিক্ষার্থীদের প্রচুর ভিড় থাকে। এবং কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর রিকশা /সিএনজি পাওয়া যায়। তবে কেন যেন এই ব্যাপারগুলো ভালো লাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শেষ করে যখন চলে যাব এগুলোই স্মৃতি হয়ে থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী নুর আলম জানালেন, ক্যাম্পাসে বন্ধুরা একত্রিত হলে প্রথমেই স্মরণ চত্বরে ভিড় জমাই। তারপর সেখান থেকে অন্য কোথাও বের হই। কেন না, স্মরণ চত্বরটি ক্যাম্পাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান করছে। যেখানে কেহ শহর থেকে আসলে প্রথমে এখানে আসে এবং যারা ক্যাম্পাসে থাকে তাদেরও আসতে সুবিধা হয়। ঠিক সন্ধ্যায় স্মরণ চত্বরের প্রায়ই আড্ডায় মজে যাই। স্মরণ চত্বরের পাশেই কাটা পাহাড়ে অবস্থিত সোডিয়াম লাইটের নিচে সবাই একসাথে ছবি তোলা, সেলফি তোলাত নিত্যদিনের কাজ।

ট্যুর বা কোথাও বের হওয়ার প্ল্যান করলে সবাই যখন স্মরণ চত্বরে বাসের জন্য অপেক্ষা করি সেই সময়টা সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। এছাড়াও বাংলাদেশসহ বড় কোন দলের ক্রিকেট বা ফুটবল ম্যাচ সবাই একত্রিত হয়ে খেলা দেখার জন্য স্মারণ চত্বরকেই প্রথমে সবাই পছন্দ করে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!