ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বিনোদন ]

ঢাবি মাতালো জেমস 

ঢাবি প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৩:৫৭, ১৩ ডিসেম্বর ২০২১
ঢাবি মাতালো জেমস 
ঢাবি শতবর্ষের ‘ডিইউ হান্ড্রেড কনসার্টে’ মঞ্চ মাতিয়েছেন জেমস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের কনসার্ট মাতিয়েছেন উপমহদেশের অন্যতম সেরা রকস্টার ফারুক মহফুজ আনাম জেমস। প্রায় পৌঁনে এক ঘণ্টা কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ মাতিয়েছেন তিনি। 

রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নগদ পরিবেশিত ‘ডিইউ হান্ড্রেড কনসার্ট’ শীর্ষক সঙ্গীতানুষ্ঠানে সঙ্গীতানুরাগীদের হৃদয় রাঙিয়েছেন জেমস। 

তার সুরের নৈপুণ্যে শ্রোতাদের মধ্যে দেখা দেয় অন্যরকম উষ্ণতা, জনপ্রিয় গানের সুরে আলোড়িত হয়েছে কনসার্ট, আন্দোলিত হয়েছে গানপ্রেমীদের হৃদয়। নেচে-গেয়ে শিল্পীর সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন সবার। 

Advertisement

জেমস ছাড়াও আয়োজনে শ্রোতারা উপভোগ করেন ব্যান্ডদল ওয়ারফেজ, সহজিয়া, মেঘদল, কৃষ্ণপক্ষ, ইন্ট্রোয়েট ও তীরন্দাজের পরিবেশনা। এর বাইরে একক কণ্ঠে গান শুনিয়েছেন মেহরীন। 

ঘড়ির কাটা তখন রাত ১১টা ছুঁইছুঁই। তখনই মঞ্চে আগমণ হলো দর্শক-শ্রোতাদের বহুল আকাঙ্ক্ষিত নগর বাউল ব্যান্ডদলের। জেমস্ মঞ্চে পা রাখতেই দর্শক সারি থেকে ভেসে আসলো ভিন্ন উচ্ছ্বাস। 

অন্য ব্যান্ডদলগুলোর গান শেষে প্রধান আকর্ষণের আগমণের সঙ্গে সঙ্গে নতুন উদ্যম ফিরে পায় দর্শকরা, সুরের সমুদ্রে শ্রোতার অন্তরে উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে। শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়া গান– কবিতা, তুমি স্বপ্নচারিনী হয়ে খবর নিও না কবিতা, এই নিশাচর আমায় ভেবোনা সুখের ঠিকানা... গান গিয়ে মাতিয়ে তুলেন দর্শকদের। এরপর একে একে - সুলতানা বিবিয়ানা সাহেব বাবুর বৈঠকখানা..., কোথায় আছে কেমন আছে মা…, গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া..., দুষ্ট ছেলের দল, ছন্নছাড়ার দল..., ঝাকানাকা ঝাকানাকা ঝাকানাকা দেহ দোলানা..., পাগলা হাওয়ার তরে, মাটির পিদিম নিবো নিবো করে... ইত্যাদি গান পরিবেশন করেন৷ 

আয়োজনের পঞ্চম দিনে ১২ ডিসেম্বর আয়োজিত হয় এই কনসার্ট। রোববার সকাল থেকেই শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তির আয়োজন। সকালে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় শোভাযাত্রা। যেটি অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। 

কনসার্টকে উপলক্ষ করে বিকেল থেকেই শিক্ষার্থীসহ নগরবাসীরা জমতে থাকে থাকা কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। পছন্দের শিল্পীর গান শুনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও নগরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সমবেত হতে থাকে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রবেশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তায় ঢল নামে তরুণদের। রাত যত গড়ায় দর্শক-শ্রোতার ঢল ততই বাড়তে থাকে। সেই গানপ্রেমীদের পদচারণায় একপর্যায়ে বিশাল মাঠটিও পরিপূর্ণ হয়ে যায়। 

কনসার্টের শুরুতে গান পরিবেশন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ব্যান্ডদল কৃষ্ণপক্ষ। প্রথমেই দলটি গেয়ে শোনায়- চলে আমার চান্দের গাড়ি/যাইবো সোনা বন্ধুর বাড়ি...। এরপর আপেক্ষিকের পরিবেশনায় শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় আরেক কিংবদন্তি রকস্টার আইয়ুব বাচ্চুকে। দলটি গেয়ে শোনায় বহুল শ্রোতাপ্রিয় সেই গান- সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে...। দলটির নিজেদের গাওয়া গানের শিরোনাম ছিল- কি হবে তারার পানে চেয়ে/স্মৃতিরা পিছু টানে...। 

পরে একেএকে মঞ্চ মাতান অন্যান্য ব্যান্ডদলের শিল্পীরা। সুরে সুরে ফুটে উঠে যাপিত জীবনের নানা গল্পকথা৷ শিল্পীদের কণ্ঠে ভেসে আসে বাঙালীর বীরত্বগাথার স্মৃতিকথাও৷ সেই সুরের আবেশে উতলা হয়েছে শ্রোতাদের হৃদয়, রাতের অন্ধকার ভেদ করে রঙিন হয়েছে খেলার মাঠের বিশাল প্রান্তর।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!