ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বিনোদন ]

তর্কে বিতর্কে ফের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন

এম আর রুবেল
প্রকাশিত: ১৫:০৭, ৮ মার্চ ২০২৪
তর্কে বিতর্কে ফের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতা বর্তমান প্যানেলের সাইমন সাদিক এবং জয় চৌধুরী গত মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এতে তারা শিল্পী সমিতির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছিলেন- বর্তমান সমিতি স্বেচ্ছাচারিতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে কোনো জবাবদিহিতা নেই। নিয়মিত মিটিংয়ের কোনো আয়োজন হয় না। এরকম নানা টানাপড়েনের মধ্যেই অভিনেতা মিশা সওদাগর ঘোষণা দিলেন জায়েদ খানের সঙ্গে একই প্যানেলে আর নির্বাচন করবেন না। তখন বলেছিলেন, জায়েদের সঙ্গে নির্বাচন করব কি না সেটা মুখ্য নয়। যদি শিল্পীরা চান তাহলে নির্বাচন করব। কার সঙ্গে করব এখনো চূড়ান্ত নয়। বর্তমানে মিশা সওদাগর অভিনেতা ডিপজলের সঙ্গে যৌথভাবে প্যানেল করার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে জায়েদ খানও ঘোষণা দিয়েছেন, এবারের শিল্পী সমিতি নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করছেন না। আরও জানিয়েছেন, তার ভাই-বোনেরাই চাচ্ছেন না তিনি আর শিল্পী সমিতি নির্বাচনের অংশগ্রহণ করুন। অর্থাৎ এই শিল্পী সমিতি নিয়ে এখন এমন হতাশা কাজ করছে যে সেটা সমিতির পরিবারকেও জড়িয়ে ফেলেছে। যা বাংলাদেশ শিল্পী সমিতিকে ঘিরে কখনোই এমনটি দেখা যায়নি।

অথচ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি চলচ্চিত্রের শিল্পীদের কাছে এতদিন একটি প্রাণের সংগঠন হিসেবেই ছিল। তবে সেই সংগঠন এখন পরিণত হয়েছে চরম বিতর্কিত সংগঠনে। একের পর এক বিতর্ক, নিন্দা, আলোচনা-সমালোচনা যেন তাকে অক্টোপাশের মতো ঘিরে আছে। কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না সমালোচনা। আর এই বিতর্ক সবচেয়ে বেশি উগ্র হয়ে উঠতে দেখা গেছে গতবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচন-উত্তর সময়ে।

Advertisement

এই সমিতিকে ঘিরে অনেক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ দেখেছে দেশের মানুষ। সমিতির এমন কাণ্ডকীর্তি রীতিমতো নিয়ে উপভোগও করেছে দেশের মানুষ। কীভাবে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে টানাহেঁচড়ার মতো বালখিল্য তৎপরতা চলেছে তাও দেখেছে সবাই। আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে সেই ঘটনা। শিল্পীদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এতসব ঘটনা অবাক করেছে সবাইকে। প্রথম দিকে রায়ে একাধিকবার নিপুণ হেরে গেলেও নাছোড় নিপুণ কিছুতেই হাল না ছেড়ে ফের একের পর এক আপিল করে গেছেন। এক পর্যায়ে দেখা গেছে শেষ পর্যন্ত চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তারকেই সাধারণ সম্পাদকের পদটিতে বসতে। বিতর্ক এতেও থামেনি। তবে অনেক সিনিয়র শিল্পীরাও শিল্পী সমিতির কর্মকাণ্ড- নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সময়।

ক’দিন আগেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে নব্বই দশকের অন্যতম নায়িকা শিল্পী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, কোন অনুষ্ঠান সকালে হলে তার আমন্ত্রণপত্র বাসায় যায় রাতে। তখন তো যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না। তাছাড়া ফোন করেও কখনো ডাকা হয় না শিল্পীদের। শিল্পী সমিতির শিল্পীরা শুধু সম্মান চায়। কিন্তু অসম্মান হলে তো সেখান থেকে দূরে থাকাই ভালো। আর শিল্পীদের নির্বাচন হবে সুন্দরভাবে। লাঠিসোঁটা নিয়ে বসে থাকতে হবে, আদালত পর্যন্ত যেতে হবে কেন? এমনটা তো কেউ আশা করে না।' 

এদিকে বর্তমান শিল্পী সমিতির সঙ্গে মতের অমিল থাকায় সেখান থেকে ক’দিন আগেই পদত্যাগ করেছেন সমিতির সহ-সভাপতি সাইমন সাদিক। অভিমান থেকে তিনিও এবারের নির্বাচন করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। নির্বাচন করবেন না জায়েদ খানও। অবস্থা যখন এই, ঠিক তখন নির্বাচনের আগে শিল্পী সমিতির বনভোজন অনুষ্ঠিত হয় ২ মার্চ। আর সেখান থেকে জায়েদ খানের সদস্যপদ বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়। বনভোজনের মতো আনন্দ আয়োজন থেকে এমন ঘোষণায় অবাক হয়েছেন সিনেমা সংশ্লিষ্ট অনেকেই। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে চলচ্চিত্র পরিষদ নেতা খোরশেদ আলম খসরু ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, কোনরূপ সাংগঠনিক দুর্বলতা না পেয়ে জায়েদ খান ব্যক্তিগত আক্রমণের কারণে ধারাবাহিকভাবে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিসহ সাধারণ সম্পাদকের নামে মিথ্যা, মনগড়া, কুরুচিপূর্ণ কল্পকাহিনি সংবাদ সম্মেলন, ইউটিউব, ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করায় গত ০২/০৪/২০২৩ তারিখে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জায়েদ খানের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। 

এর বিপরীতে জায়েদ খান বলেন, আমি একজন ব্যক্তির আক্রোশের শিকার। শিল্পী সমিতিতে সে নিজের মতো করে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। আমার সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্তের আগে অন্তত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। সেটাও করেনি। আমি চিঠিও হাতে পাইনি। তবে আমি আইনিভাবেই সবকিছু মোকাবিলা করব।

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বচন। এরই মধ্যে চলচ্চিত্রের সিনিয়র শিল্পী মিশা সওদাগর ও ডিপজল নিজেদের প্যানেল ঘোষণা দিয়েছেন। শোনা যাচ্ছে নিপুণ প্যানেল গড়বেন অমিত হাসানকে সভাপতি করে। কারণ বর্তমান সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন নির্বচন করবেন না। আবার এমনও শোনা যাচ্ছে শাকিব খানকে সভাপতি করে নির্বাচনে যাওয়ার কথা। তবে শাকিব খান ইতোপূর্বে জানিয়েছেন তিনি কোনো প্যানেল থেকেই সভাপতি হচ্ছেন না। শুধু তাই নয়, বর্তমান কমিটির অনেকেই এবারের নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ পাচ্ছেন না বলেও জানিয়েছেন ডেইলি বাংলাদেশকে।

এদিকে শিল্পী সমিতির নির্বাচিত সদস্য ও নায়ক জয় চৌধুরী এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, শিল্পী সমিতির নাম চেঞ্জ করে ব্যক্তিগত সমিতি দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। অনেকে এমন কথাও বলছেন এক সময় যে শিল্পী সমিতিকে ঘিরে এক অনাবিল আনন্দ-উল্লাসের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করত শিল্পীরা গত বছর থেকে সেটা যেন জাতীয় নির্বাচনের মতো কাড়াকাড়ি-পাড়াপাড়ির পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে।

এমন বেগতিক অবস্থায় শিল্পী সমিতির একজন সদস্য এবং চলচ্চিত্রের নতুন প্রজন্মের নায়িকা মিষ্টি জান্নাত নির্বাচনে দাঁড়াবেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যে অবস্থা দেখতেছি শিল্পী সমিতির তা দেখে মনে হচ্ছে নিজেও এ নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যাই। কিন্তু শিল্পী সমিতির নির্বচন করে কী লাভ? এতে তো আমি কোনো লাভ দেখি না। যেখানে কোনো লাভই নেই তার পেছনে কেন অযথা সময় ব্যয় করব? বরং নির্বাচন যদি করতেই হয় তাহলে জাতীয় পর্যায়েই নির্বাচন করব।

প্রসঙ্গত, এবার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কমিশনার হতে যাচ্ছেন খোরশেদ আলম খসরু।

ডেইলি-বাংলাদেশ/টিএএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!