ঢাকা,  শুক্রবার   ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]
বিশ্ব হাসি দিবস  আজ

হাসি : মন ও শরীরের সুস্থ্যতার টনিক

এস এম মুকুল
প্রকাশিত: ২২:৫৬, ২ অক্টোবর ২০২৬
হাসি : মন ও শরীরের সুস্থ্যতার টনিক
হাসলে ফুসফুসের আকৃতি বৃদ্ধি পায় । এতে ফুস্ফুস অনেক অক্সিজেন ধারণ করতে পারে। একবার হাসলেও শরীরের ছোটখাটো একটা ব্যায়াম হয়ে যায়। গবেষকদের মতে একবার হাসলে শরীরের ০.০০৩ শতাংশ ক্যালরি খরচ হয়। ফলে হাসিতে কমে ওজন!

আমরা জানি মন ভালো করার ক্ষেত্রে হাসির জুড়ি নেই। যুক্তরাজ্যের ফেস ইয়োগা এক্সপার্ট ডেনিয়েল কলিন্স বলেন যে হাসলে মুখের মাড়ির ২৬ টি পেশিরই ভালো ব্যায়াম হয়। বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হাসি শারিরীক ও মানসিক সুস্থ্যতায় টনিকের মতো কাজ করে। হাসি হল মানুষের জীবনে একটি মেডিসিনের মত। যার দরুন সুস্থ থাকা সম্ভব। হাসি জীবনকে সহজ ও সরল করে দেয়। মনের ভাবও কিন্তু প্রকাশ করে দেয় এক চিলতে হাসি।

গবেষকদের মতে একবার হাসলে শরীরের ০.০০৩ শতাংশ ক্যালরি খরচ হয়। প্রাণখোলা হাসির অনেক উপকার। হাসি রক্তচাপ কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দৃঢ় করে, বয়সের ছাপ কমায়, ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলে, মানসিক চাপ কমায়, হাসি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, মন ভালো করতে ভূমিকা রাখে, ব্যাথা কমায় ও মানসিক চাপের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে। 

  • আজ অক্টোবরের প্রশত শুক্রবার বিশ্ব হাসি দিবস। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম শুক্রবার দিবসটি পালন করা হয়।চিকিৎসকদের ভাষায়, সারাদিনকে প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য সকালের ১ মিনিটের হাসিই যথেষ্ট। হাসি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি মানসিক চাপ থেকেও দূরে রাখে।

আপনি এখনো কি দুশ্চিন্তায় আছেন? চিন্তাগুলকে ছেড়ে দিয়ে এবার প্রাণ খুলে হাসুন তো! কারণ হাসিতেই আছে মুক্তি হাসিতেই আছে স্বস্তি আর হাসিতেই এর প্রতিকার!

Advertisement

হাসির জন্য একটি প্রতীকীও আছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হলুদ একটি মুখের হাসু বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় হাসি। হলুদ একটি মুখে কালো বিন্দুর দুটি চোখ, একটি চওড়া হাসি আপনার দিনটি ভালো করতে পারে। ১৯৭০ এর দশকে হাস্যোজ্জ্বল মুখ কার্টুন, কমিকস এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য ব্যবহৃত হত।

জানা যায়, ১৯৬৩ সালে শিল্পী হারভে রোজ বল হলুদ রঙের বৃত্তের মধ্যে দুটো চোখ আর একটা অর্ধচন্দ্রাকৃতির মুখের ছবি আঁকেন। যা 'স্মাইলি' হিসেবে পরিচিত। এরপর থেকেই স্মাইলির বাণিজ্যিক ব্যবহারে ব্যাপক পরিচিতি পান যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী হারভে। 

তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সাল থেকে অক্টোবর মাসের প্রথম শুক্রবারটি 'ওয়ার্ল্ড স্মাইল ডে' হিসেবে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়। শিল্পী হারভে বেল ১৯৬৩ সালে বৃত্তের মধ্যে এই হাসি মুখটা প্রথম এঁকেছিলেন। যেটাকে আমরা স্মাইলি বলে চিনি। এখন এই হাসি মুখের প্রতীকটা এতই জনপ্রিয় যে দেওয়ালের ছবি থেকে আধুনিক ইমোজি সবখানেই এর ব্যবহার হয়ে আসছে। 

  • হাসি দিবসের দুই বছর না পেরুতেই ২০০১ সালে একটা দুঃখের ঘটনা ঘটে যায়। হাসি দিবসের প্রবর্তক হারভে বেল মারা যান। তবে মারা যাওয়ার আগে বেল নিজের নামে একটি ফাউন্ডেশন তৈরি করে গেছেন। 

গবেষণকরা বিভিন্ন বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, হাসলে শরীরে ‘এন্ডোরফিনস’ নামক একধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিসৃত হয়। ১০০ ভাগ প্রাকৃতিক এই রাসায়নিক পদার্থ ব্যথা উপশমকারী হিসেবে কাজ করে এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। হাসির কারণে আরও নিসৃত হয় ‘সেরোটোনিন’ যা মন ভালো করতে কার্যকর। মস্তিষ্কে এই উপাদানগুলো যত বেশি নিসৃত হবে, আপনি তত বেশি নিশ্চিন্ত এবং আনন্দিত থাকবেন। অপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণখোলা হাসি মেডিটেশনের মতই আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। 

এজন্যই আজকাল বিদেশে বিভিন্ন বয়সের মানুষকে মেডিটেশনের মত হাসি থেরাপিও নিতে দেখা যায়। হাসি আমাদের দুশ্চিন্তা ভুলে আশাবাদী হতে সাহায্য করে। 

গবেষণায় জানা গেছে, হাসলে আমরা নির্ভার থাকি, আরও বেশি পজিটিভ হয়ে উঠি। দুঃখের স্মৃতি ভুলতেও হাসি একটা টনিকের মত।  মনকে শান্ত করে, মনোযোগে সাহায্য করে। 

আচ্ছা কখনো ভেবেছেন, হাসিমুখের জন্য হলুদ রঙ কেন ব্যবহার করা হয়েছিল? কারণ হলুদ হলো প্রফুল্লতার প্রতীক, তাই হাসিমুখের জন্য এর চেয়ে ভাল রঙ আর কী হতে পারে?

হার্ভি বল বিশ্বের প্রথম ইমোজি তৈরির দাবি করেন। সেই দাবির পক্ষে-বিপক্ষে অনেক যুক্তি আছে। তবে, হার্ভির উদ্দেশ্য ছিল- এই দিনে জাতি, লিঙ্গ বা ভৌগলিক অবস্থান নির্বিশেষে সবার মাঝে আনন্দ ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া।

হার্ভি ২০০১ সালে এই পৃথিবী থেকে চলে যান। কিন্তু তিনি যে ফাউন্ডেশনটি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিলেন সেটি হলো- হার্ভে বল ওয়ার্ল্ড স্মাইল ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনটি প্রতি বছর পৃথিবীর সব মানুষকে ভালো রাখতে ও অন্যদের সঙ্গে দারুণ কিছু মুহূর্ত ভাগ করে নিতে দিবসটি পালন করে।

হৃদরোগের টনিক হাসির সিনেমা : 
হৃৎপিণ্ড ভালো রাখার জন্য আমরা কিনা করি। ভালো খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এমনকি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধও সেবন করি। এসব ছাড়াও হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখার একটি সহজ উপায় হচ্ছে হাসিখুশি থাকা। ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সম্প্রতি তিন শতাধিক মানুষের ওপর পরিচালিত এক গবেষণার ফলাফল প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, ঘরে বসেই হাসির বা মজার সিনেমা দেখলে মানুষের হৃদযন্ত্র ভালো থাকে। 

গবেষকেরা দাবি করেছেন, মজার বা হাসির চলচ্চিত্র দেখলে আমাদের রক্ত সঞ্চালনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে, হরর বা ভয়ের ফিল্ম দেখলে আমাদের মানসিক বিষন্নতা বাড়ে আর রক্তের সঞ্চালন কমে যায়। 

জাপানে একটি গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে সন্ধ্যায় যত বেশি হাসবেন, রাতে তত ভালো ঘুম হবে! খুব ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার। এই জন্য ঘুমাবার আগে ভালো বই পড়া বা মজার সিনেমা দেখা ভালো অভ্যাস ধরা হয়।

  • মনে রাখবেন, একটি নির্মল হাসি আপনার জন্য একটি মহৌষধ। হাসির মাধ্যমে আপনি নিজের অজান্তেই সারিয়ে ফেলতে পারেন দেহে বাসা বাধা অনেক জটিল রোগ। 

-     গবেষণায় দেখা যায় যে সকল মানুষ বেশি হাসে তাদের হার্টের সমস্যা তুলনামূলকভাবে খুব কম থাকে। তাই সুস্থ হার্টের জন্য মন খুলে হাসুন।

-     মানসিক চাপ হাজার ধরনের রোগের স্রষ্টা। মানসিকভাবে চাপ থেকে বাঁচতে হাসি খুশি থাকুন।

-    অট্ট হাসিতেই ব্যথা দূর হতে পারে। দেহের যেকোন ব্যথা সারাতে হাসুন। 

-    হাই ব্লাড প্রেশারে হাসি ওষুধের মতো কাজ করে। প্রেসারকে স্টেবলড কন্ডিশনে রাখে। 

-    হাসলে ফুসফুসের আকৃতি বৃদ্ধি পায় । এতে ফুস্ফুস অনেক অক্সিজেন ধারণ করতে পারে। 

সারাদিনে মাত্র ১৫ মিনিট মন খুলে হাসলে আমাদের ২০-৪০ ক্যালোরি পর্যন্ত ক্ষয় হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রতিনিয়ত হাসে তাদের গড় আয়ু ৭ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। 

  • একটি নির্মল হাসি আপনার জন্য একটি মহৌষধ। হাসির মাধ্যমে আপনি নিজের অজান্তেই সারিয়ে ফেলতে পারেন দেহে বাসা বাধা অনেক জটিল রোগ। দেখে নিন হাসির নানান ধরনের উপকারিতা।

হাসলে দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়:
যখন আমরা মন খুলে হেসে থাকি তখন আমাদের দেহে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে অক্সিজেন গ্রহণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রক্তে থাকা এড্রেনালিনের পরিমাণ কমে যায় যার ফলে সর্দি, কাশি, জ্বর এবং অন্যান্য ছোট ছোট রোগ হতে মুক্তি পাওয়া যায়।

দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে এই হাসি:
নিয়মিত হাসলে আমাদের ইমিউন সিস্টেম উন্নত হয় এতে করে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং আমরা সুস্থ থাকি।

হাসলে কিন্তু ক্যালোরিও ক্ষয় হয়:
আপনার দেহের ক্যালোরি ক্ষয়ের জন্য আপনি কতো কিই না করেন। কিন্তু আমরা জানিও না যে সারাদিনে মাত্র ১৫ মিনিট মন খুলে হাসলে আমাদের ২০-৪০ ক্যালোরি পর্যন্ত ক্ষয় হয়। আপনি একবার হাসলেও আপনার দেহের একটি ছোটখাটো ব্যায়াম হয়ে যায় যা আপনি জানেনও না। গবেষকদের মতে একবার হাসলে দেহের ০.০০৩ শতাংশ ক্যালরি খরচ হয়। যার ফলে কমে ওজন।

আয়ু বৃদ্ধি করে:
জাপানের গবেষণায় প্রকাশ হয়েছে যে সন্ধ্যায় যত বেশি হাসবেন, রাতে ততই ভালো ঘুম হবে! শুধু হাসিই পারে আপনার মনের কষ্ট দূর করে মনকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে যা আপনার আয়ুকে বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রতিনিয়ত হাসে তাদের গড় আয়ু ৭ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

হাসির আছে আরো আরো উপকার

(১) আপনার হার্টের ভালোর জন্য হাসিটা খুব জরুরি। গবেষণায় দেখা যায় যে সকল মানুষ বেশি হাসে তাদের হার্টের সমস্যা তুলনামূলকভাবে খুব কম থাকে। তাই সুস্থ হার্টের জন্য মন খুলে হাসুন।

(২) হাসি সম্পর্কের মালা গাঁথা। একে অপরের দূরত্ব ঘোচাতে একটি সুন্দর হাসিই যথেষ্ট। হাসি অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করে। কঠিন পরিস্থিতে রাগ কমায়।

(৩) কর্মক্ষেত্রে সঠিকভাবে কাজ করতে চাই প্রফুল্ল মন। দলবদ্ধভাবে বা একা যেভাবেই কাজ করুন না কেন কাজের উৎসাহ ধরে রাখতে ও মানসিক দৃঢ়তা আনতে হাসি খুশি থাকাটা অত্যন্ত জরুরী কিন্তু!

(৪) মেন্টাল প্রেশারে কে নেই বলুন তো? এটাতো নিত্যদিনের সঙ্গি-তে পরিণত হয়েছে। এই মেন্টাল প্রেশার বা মানসিক চাপ বেসিক্যালি হাজার ধরনের রোগের স্রষ্টা। মানসিকভাবে চাপের উপর থাকলে যে কারো জীবনই গতি হারিয়ে ফেলে। বেঁচে থাকার কোন অর্থই সে খুঁজে পায় না। এমন মৃত জীবন থেকে বাঁচতে তাই হাসুন প্রতিদিন।

(৫) অট্ট হাসিতেই ব্যথা দূর হতে পারে। দেহের যেকোন ব্যথা সারাতে হাসুন। কারণ, হাসলে আমাদের মস্তিষ্কে এনডোরফিন নামক হরমোন নিঃসরণ করে যা দেহের ব্যথা দূর করে।

(৬) হাসি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। হাসির সময় দেহের রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। যার ফলে অক্সিজেন গ্রহণের মাত্রা বেড়ে যায় । রক্তে এড্রেনালিনের পরিমাণ কমে যায় যার ফলে সর্দি, কাশি, জ্বর এবং অন্যান্য ছোট ছোট রোগ আক্রান্ত করতে পারে না।

(৭) হাই ব্লাড প্রেশারে হাসি ওষুধের মতো কাজ করে। প্রেসারকে স্টেবলড কন্ডিশনে রাখে।এবং সুস্থতা নিশ্চিত করে।

(৮) শরীর সুস্থ থাকতে চাই ভালো ঘুম। হাসি ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে। জাপানে একটি গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে সন্ধ্যায় যত বেশি হাসবেন, রাতে তত ভালো ঘুম হবে! খুব ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার। এই জন্য ঘুমাবার আগে ভালো বই পড়া বা মজার সিনেমা দেখা ভালো অভ্যাস ধরা হয়।

(৯) ডাবল চিন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কি? আরে চিন্তা ছেড়ে হাসুন তো! কারণ হাসিতেই যে এর প্রতিকার! যুক্তরাজ্যের ফেস ইয়োগা এক্সপার্ট ডেনিয়েল কলিন্স বলেন যে হাসলে মুখের মাড়ির ২৬ টি পেশিরই ভালো ব্যায়াম হয়।

(১০) হাসলে ফুসফুসের আকৃতি বৃদ্ধি পায় । এতে ফুস্ফুস অনেক অক্সিজেন ধারণ করতে পারে। একবার হাসলেও শরীরের ছোটখাটো একটা ব্যায়াম হয়ে যায়। গবেষকদের মতে একবার হাসলে শরীরের ০.০০৩ শতাংশ ক্যালরি খরচ হয়। ফলে হাসিতে কমে ওজন!

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসএমএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!