জানা যায়, রোগটির ক্ষতিকর বিষয় নির্ভর করে রোগের জীবাণুর ওপর। অতিরিক্ত গরমের কারণে এ রোগের জীবাণু অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে ওষুধ ব্যবহারেও অনেক সময় এগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ সমস্যা একেবারেই সামান্য থাকে এবং তা নিজে থেকে ঠিকও হয়ে যায়। কিন্তু গুরুতর ক্ষেত্রে এটি ঠিক হতে অন্তত তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশগত কারণে বর্ষার শুরু ও শেষের দিকে চোখ ওঠা স্বাভাবিক। এ সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে নিজেকে এবং পরিবারের সদস্যদের এ রোগ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
.png)
এ প্রসঙ্গে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (চক্ষু) লায়ন ডাঃ মো. শাহীন রেজা চৌধুরী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, চোখ ওঠা খুবই সাধারণ ও পরিচিত একটি রোগ। ভাইরাস, ব্যকটেরিয়া বা অ্যালার্জিজনিত কারণে চোখ ওঠা রোগ হতে পারে। ভাইরাসে আক্রান্ত চোখ কিছুদিন পর ভালো হয়ে যায়। কিন্তু এর মাধ্যমে আশপাশের অনেককেই আক্রান্ত করতে পারে। ভাইরাসের ধরন এবং রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর রোগের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। চোখ ওঠা রোগের কারণে কর্নিয়ায় প্রদাহ হতে পারে। সেক্ষেত্রে সময় মতো চিকিৎসা সেবা না নিলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। তাই জরুরিভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
মানুষের চোখের গোলকের সাদা অংশ এবং চোখের পাতার ভেতরের অংশ পাতলা একটি স্বচ্ছ পর্দা দিয়ে ঘেরা থাকে, যার নাম কনজাঙ্কটিভা। এর প্রদাহ বা inflammation-ই হল চোখ ওঠা বা কনজাঙ্কটিভাইটিস। আমাদের দেশে এটি খুবই পরিচিত রোগ।
আমরা আশেপাশে যে কনজাঙ্কটিভাইটিস রোগীদের দেখে থাকি সেটা সচরাচর ভাইরাসের আক্রমণে হয়। তবে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, এলার্জী বা আঘাত পাবার কারণেও এ রোগ হতে পারে। যে কোনো বয়সের নারী পুরুষের এ রোগটি যে কোনো সময় হতে পারে। তবে অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন পদ্ধতি এ রোগে আক্রান্ত হতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
চোখ ওঠা রোগে যে চোখ লাল হয়ে যায় এটা কিন্ত সবারই জানা। কিন্তু কেন এমন হয়? জবাবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কনজাঙ্কটিভার রক্তনালীগুলো প্রদাহর কারণে এমনটি হয়। এতে চোখ ফুলে বড় ও লাল হয়ে যায়। ঘুম থেকে উঠলে চোখ আঠা আঠা লাগা, সব সময় চোখের ভেতর কিছু একটা পড়েছে এমন অনুভূতি, চোখ চুলকানো এবং জ্বালাপোড়া করা, আলোর দিকে তাকালে অস্বস্তি লাগা, সবকিছু ঘোলা ঘোলা দেখা, চোখ দিয়ে পানি ঝরা, চোখের কোনায় ময়লা (কেতুর) জমা, চোখ ফুলে যাওয়া ইত্যাদি এই রোগের লক্ষণ।
কনজাঙ্কটিভাইটিস প্রথমে এক চোখে হয় এরপর তা অন্য চোখে ছড়িয়ে পড়ে। এ জন্য অন্য চোখটিকে সংক্রমিত হতে না দেয়া চিকিৎসার অন্যতম উদ্দেশ্য। এর চিকিৎসায় রোগীকে অসুস্থ চোখের পাশে কাত হয়ে শুতে বলা হয়। এ ছাড়া চোখে বার বার হাত না দেয়া বা চোখ না কচকানো, বার বার পানি দিয়ে না ধোয়া, কালো চশমা পড়া ইত্যাদি রোগটির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
এ রোগে আক্রান্ত হলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। আরো খারাপ কোনো ইনফেকশনের হাত থেকে বাঁচাতে বা এই ইনফেকশন সারাতে এন্টিবায়োটিক ড্রপ দিতে হলে তিনিই দেবেন। অপচিকিৎসা করা হলে রোগটি জটিল আকার ধারণ করে চোখের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।
চোখ ওঠার লক্ষণসমূহ:
১. চোখের ভেতর অস্বস্তি বা খচখচে ভাব হওয়া।
২. চোখ চুলকানো এবং চোখে জ্বালা-পোড়া করা।
৩. চোখ দিয়ে অতিরিক্ত পানি পড়া।
৪. চোখের কোণে ময়লা বা পুঁজ জমা হওয়া।
৫. চোখের পাতা ফুলে যাওয়া।
৬. চোখের সাদা অংশ লাল বা গোলাপি হয়ে যাওয়া।
৭. আলোর দিকে তাকাতে কষ্ট হওয়া।
মনে রাখা জরুরি:
১. চোখ উঠলে সব সময় সানগ্লাস পড়ে থাকুন।
২. চোখ মোছার জন্য রুমালের পরিবর্তে নরম ও পরিষ্কার টিস্যু ব্যবহার করুন।
৩. বাইরে থেকে এসে পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন।
৪. কখনো চোখে খালি হাত দেবেন না। হাত সব সময় পরিষ্কার এবং শুকনো রাখুন।
৫. এক চোখে কনজাংটিভাইটিস হলেও দুই চোখেই চোখের ড্রপ ব্যবহারের করা ভালো। এতে অপর চোখে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
৬. এই ধরণের সমস্যায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা।
মনে রাখা প্রয়োজন ওষুধ যেমন রোগ সারায়, জীবন বাঁচায়, ঠিক তেমনি ভুল ওষুধ ব্যবহারে অঙ্গহানি হয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে জীবন।
ডেইলি বাংলাদেশ/ডিএম/এনকে/এস/জেডআর