পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) পাওনিয়ার বেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বায়েকের সার্ভার রুমসহ কয়েকটি কক্ষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আগুনে কম্পিউটার, এসি, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের পর পাওনিয়ার বেজসহ আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
.png)
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্তও প্রকল্পের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ৩টার দিকে বায়েকের পাওনিয়ার বেজের সার্ভার রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডের পর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) ও বায়েকের বিভিন্ন কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় এসব স্থাপনায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানি সংকটে প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী বলেন, গভীর রাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকল্পে ছুটে যান। ঈশ্বরদীর চারটি ইউনিটের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের ভেতরে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুনে বায়েকের কার্যালয়ের কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সার্ভার রুমে আগুন লাগায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, নথিপত্র ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. করিব হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।