সিঙ্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করে তিনি জানান, মন্ত্রীদের বেতন ৬০ শতাংশেরও বেশি বাড়ানো হবে।
এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনৈতিক নেতাদের তালিকায় সিঙ্গাপুরের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
.png)
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেঞ্চমার্ক বেতন ২২ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ৩৬ লাখ ডলারে দাঁড়াবে। অর্থাৎ বছরে বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার।
উপপ্রধানমন্ত্রীর বেঞ্চমার্ক বেতন ১৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৩০ লাখ ৬০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার হবে। আর দায়িত্ব ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মন্ত্রীরা বছরে ১৮ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৮ লাখ ৮০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার পর্যন্ত বেতন পাবেন।
তবে নিজের বর্তমান মেয়াদে বেতন বাড়ার ফলে যে অতিরিক্ত অর্থ পাবেন, তার পুরোটা ‘উপযুক্ত জনকল্যাণমূলক কাজে’ দান করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং।
সিঙ্গাপুর সরকার দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ বেতনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছে। সরকারের মতে, প্রতিযোগিতামূলক বেতন কাঠামোর মাধ্যমে মেধাবী ও দক্ষ ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আকৃষ্ট করা এবং কার্যকর শাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে সাধারণ নাগরিকদের আয়ের তুলনায় মন্ত্রীদের বিপুল বেতন নিয়ে দেশটিতে বিতর্কও রয়েছে।
লরেন্স ওং বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের বেতন একটি ‘কঠিন ও আবেগপূর্ণ বিষয়’। সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় এই বেতন অনেক বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নাগরিকদের গভীরভাবে ভাবা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে তার মতে, মূল প্রশ্ন হচ্ছে—আগামী কয়েক দশকে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতার রাজনৈতিক নেতৃত্ব সিঙ্গাপুর ধরে রাখতে পারবে কি না। তিনি বলেন, ‘ভালো সরকার নির্ভর করে ভালো নেতৃত্বের ওপর।’
প্রায় ১৫ বছর পর সিঙ্গাপুরে মন্ত্রীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। দেশটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকে বিশ্বের অন্যতম কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে নিয়মিত অবস্থান করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, একটি স্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান মন্ত্রী ও অন্যান্য পদধারীদের একবারে নতুন কাঠামোর সর্বোচ্চ বেতনে নেওয়া হবে না।
আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে তাদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও কর্মদক্ষতা বিবেচনায় সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত এককালীন বেতন সমন্বয় করা হবে। ভবিষ্যতে বেতন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বের পরিমাণ বিবেচনায় নেওয়া হবে।