মৃত আসাদ মিয়ার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ২০২২ সালে আসাদের মৃত্যুর পর আফসানা বিধবা হিসেবে তার স্বামীর প্রাপ্য পেনশনের অর্থ উত্তোলন করেন। পরে তিনি সাগর আহমেদ উজ্জ্বলকে বিয়ে করলেও বিষয়টি গোপন রেখে পেনশনের অর্থ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে সাগরের সঙ্গে আফসানার যোগসাজশ ছিল বলেও অভিযোগ পরিবারের।
তবে আফসানা বেগম বলেন, ‘আমার কারও সঙ্গে বিয়ে হয়নি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’
.png)
অন্যদিকে সাগর আহমেদ উজ্জ্বল দাবি করেন, আফসানা তার স্ত্রী। পেনশনের টাকা উত্তোলনের সুবিধার্থে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে আফসানা তাকে অনুরোধ করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
জানা গেছে, ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের অফিস সহায়ক আসাদ মিয়া ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি মারা যান। তার স্ত্রী আফসানা বেগমও একই প্রতিষ্ঠানে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। তাঁদের সংসারে সাদিয়া নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
আসাদের মৃত্যুর পর আফসানা বিধবা হিসেবে স্বামীর প্রাপ্য পেনশনের অর্থ উত্তোলন করেন। এ নিয়ে বর্তমানে প্রশ্ন উঠেছে, পেনশন উত্তোলনের পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করে থাকলে সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল কি না।
মৃত আসাদ মিয়ার ভাই ও অভিযোগকারী কাউসার মাহমুদ বলেন, তার ভাই সরকারি মহিলা কলেজে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর আফসানা দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে পেনশনের টাকা উত্তোলন করেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।
কাউসার মাহমুদের অভিযোগ, তাঁদের মা অসুস্থ। অথচ ভাইয়ের পেনশনের কোনো অর্থ তাকে দেওয়া হয়নি। দ্বিতীয় বিয়ের তথ্য গোপন করে পেনশনের টাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অনিয়ম প্রমাণিত হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী অর্থ ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। একই সঙ্গে আসাদের মেয়ে সাদিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিবারের উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে সাগর আহমেদ উজ্জ্বল নিজেকে আফসানার স্বামী দাবি করে বলেন, ‘আফসানা আমার স্ত্রী। সে আমাকে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিল। গোপন না রাখলে আগের স্বামীর পেনশনের টাকা উত্তোলন করতে পারবে না এমন কথা সে আমাকে বলেছিল।’
সাগরের এ বক্তব্যের সঙ্গে আফসানা বেগমের বক্তব্যের সরাসরি বিরোধ রয়েছে। আফসানা যেখানে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করছেন, সেখানে সাগর নিজেকে তার স্বামী হিসেবে দাবি করছেন। ফলে তাঁদের সম্পর্কের প্রকৃত অবস্থা এবং পেনশনের টাকা উত্তোলনের সময় দেওয়া তথ্য-উপাত্ত এখন বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে আফসানা বেগমের ভাই উজ্জ্বল মিয়া সাগরের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, সাগর তার বোনকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দ্রুত সাগরের সঙ্গে তার বোনের সম্পর্কের অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, আসাদের স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী পেনশনের টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে তার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের জানা ছিল না।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিয়ে হয়ে থাকলে পেনশন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি বিধান রয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।
কলেজের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ সত্য হলে পেনশনের অর্থ উত্তোলনের সময় আফসানা কী তথ্য ও কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন এবং সেগুলো যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না।
ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। অফিসে গিয়ে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় বিয়ে হয়ে থাকলে পেনশন-সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারি বিধান রয়েছে। এখন যদি আসাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ আইনি পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আদালত বিষয়টি নির্ধারণ করবেন।’
অভিযোগে সাগর আহমেদ উজ্জ্বলকে স্থানীয়ভাবে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলেও স্থানীয় যুবলীগ নেতারা জানিয়েছেন, তিনি সংগঠনের কোনো পদে নেই। তাঁদের দাবি, ব্যক্তি সাগরের কোনো কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন নেবে না। এ ঘটনায় যুবলীগের নাম ব্যবহার করে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করার আহ্বানও জানিয়েছেন তাঁরা।
এ ঘটনায় আফসানার দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে তা কখন এবং কীভাবে হয়েছে, পেনশন উত্তোলনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কী তথ্য দেওয়া হয়েছিল এবং পেনশন গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এসব বিষয় এখন তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।