জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা ইমাম-উলামা পরিষদের উদ্যোগে কনসার্ট বন্ধের দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির নেতারা জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দেন। সেখানে কনসার্টে গান-বাজনার আয়োজনকে শরিয়তবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানটি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে ধর্মীয় নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কনসার্ট অনুষ্ঠিত হলে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে অনুষ্ঠানটি আয়োজন না করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
.png)
স্মারকলিপির অনুলিপি কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়। এরপর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কনসার্টকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুষ্ঠানটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে কনসার্ট স্থগিতের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছে ব্যান্ড ‘অ্যাশেজ’। নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে ব্যান্ডটি জানায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু কারণে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে।
তবে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ বা কনসার্টটি পুনরায় আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে ব্যান্ডটির পক্ষ থেকে এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
কনসার্টটি ঘিরে এর আগে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকায় দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা থাকলেও ধর্মীয় নেতাদের আপত্তি এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কারণে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় ধর্মীয় নেতাদের আপত্তি, প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের স্বাধীনতা—এই তিনটি বিষয়ই সামনে এসেছে। তবে কনসার্টটি স্থগিতের পর নতুন করে কোনো তারিখ ঘোষণা না হওয়ায় অনুষ্ঠানটি আদৌ কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।