ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ স্বাস্থ্যকথা ]

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ১৭৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:৩০, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ১৭৬
ডেঙ্গু মশা। ফাইল ফটো

দিন যত গড়িয়ে যাচ্ছে ততোই ভয়াবহ হয়ে উঠছে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তির সংখ্যা ৫৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এসময়ের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে মারা গেছে ১৭৬ জন। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশংঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজেমেন্ট সেন্টারের দেয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন, মে মাসে ৭১৪ জন, জুন মাসে দুই হাজার ৯০৭ জন, জুলাই মাসে ৯ হাজার ২০৬ জন, আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন এবং চলতি সেপ্টেম্বরের ১৭ দিনে  এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৫৫৪ জন।

Advertisement

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এবছর মোট ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে জানুয়ারি মাসে মৃতের সংখ্যা ছিল ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাই মাসে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন এবং চলতি সেপ্টেম্বরে ৭৯ জন মারা গেছেন।

এদিকে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮ টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত) দেশে  ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৮৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ২১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯২ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৯০ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২২৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৫২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০২ জন, রংপুর বিভাগে ৩৫ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন রয়েছেন।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা আছে। এছাড়া আমাদের শহর-গ্রাম সব অপরিচ্ছন্ন। বিশেষ করে প্লাস্টিকের ব্যবহার অনেক বেশি বেড়ে গেছে। এছাড়া রিকশা-ভটভটি ব্যবহারের পর ফেলে রাখা, ডাবের খোসা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার ফেলে কারণে এতে পানি জমে থাকে এবং মশা বংশ বিস্তার করে। তিনি বলেন, গ্রাম এবং শহর এখন সমান হয়ে গেছে। সেখানেও বিল্ডিং, পাকা রাস্তা, অব্যবহৃত যানবাহনে পানি জমে থাকে। আমরা যদি সমন্বিতভাবে একসাথে সারা দেশে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করতে না পারি তাহলে এটা বাড়বেই।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমাদের যে অ্যাপ্রোচ সেটা বদলে ফেলতে হবে। যেমন মশা নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র রাসায়নিক ধোঁয়া আর রোগীর জন্য প্রস্তুতি মানে আইসিইউর ব্যবস্থা করা। দুটোর কোনটাই রোগীর সংখ্যা এবং রোগীর জটিলতা রোধে কোন ভূমিকা রাখে না। এক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে চিরুনি অভিযান চালাতে হবে। হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে মশা খোঁজা, রোগী খোঁজা এবং পরিচ্ছন্নতা এই তিনটি কাজ এক সাথে করতে হবে। আগে শুধুমাত্র ঢাকায় করলেই হয়ে যেত। এখন একদম তৃণমূল পর্যায়ে করতে হবে। কারণ সারা দেশেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। তাই সারা বছরই অভিযান কার্যক্রম চালাতে হবে। এতে সরকারের পয়সা খরচ হবে। কিন্তু যে পয়সা খরচ হবে তার চেয়ে আইসিইউ খরচ অনেক বেশি। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজন হলে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এতে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও রোগীর জটিলতা কমবে। তিনি আরও বলেন, এটা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, স্থানীয় মন্ত্রণালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মা ও শিশু মন্ত্রণালয়কেও থাকতে হবে। সমন্বিত ভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ//এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!