র্যাগিং ঘটনায় তদন্তে অব্যাহতি, ভুল নোটিশে জরিমানার মুখে দুই শিক্ষার্থী
জাবি প্রতিনিধি :
.png)
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র্যাগিংয়ের একটি ঘটনায় তদন্তে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরও ভুলবশত দুই শিক্ষার্থীকে ৮০ হাজার টাকার জরিমানা করার নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে সামাজিক হেয়, মানসিক বিপর্যস্ত এবং একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোঃ মাহমুদুল হাসান খান আকিব ও মোঃ মাহমুদুল আমিন সিয়াম।
জানা যায়, গত ২০ জুলাই দিবাগত রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪ ব্যাচের(২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ)-র কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ৫৫ ব্যাচের(২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ)কয়েকজন শিক্ষার্থীকে র্যাগিং করেন। এতে ৫৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ৫৪ ব্যাচের ৮ জন শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।যেখানে অভিযোগের ভিত্তিতে ৫৪ ব্যাচের আকিব ও সিয়ামের নাম ছিলো।
পরবর্তীতে তদন্ত অভিযোগে আকিব ও সিয়ামের সংশ্লিষ্টতার ভিত্তি না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি সংশোধিত অফিস আদেশ জারি করে, যেখানে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়।
তবে গত মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশে এ তদন্তে অভিযুক্তদের জরিমানার আরোপের তথ্য প্রকাশ করা হয়। যেখানে আবারও তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সিয়াম বলেন, "ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে প্রথমে আমাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এর ফলে প্রথম বর্ষের পরীক্ষার সময় আমরা চরম একাডেমিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ি। এমনকি পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে আমরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি পাই।
তদন্তে নাম বাদ যাওয়ার পর আবার কী ভিত্তিতে আমাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলো? অভিযোগের কারণে আমরা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এই ক্ষতির দায় প্রশাসন ও অভিযোগকারীদের।"
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে দাবি করে বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে আমাদের হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় করা হয়ে থাকলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে তাদের অভিযোগ থেকে নিষ্পত্তি দেওয়া হয়। আর গত ১৩ তারিখের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের জরিমানা করা হয়েছে। যেখানে প্রক্টর অফিস থেকে ভুলে তাদের নাম আশায়, গত কালের নোটিশে করে তাদের নাম চলে আসছে।এর জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আজ পুনরায় সংশোধিত করে ভুক্তভোগীদের নাম বাদ দিয়ে জরিমানার অফিস আদেশ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো জাকির হোসেন বলেন, আমি এবিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত নই। সম্ভবত পূর্বের অভিযোগের ভিত্তিতেই ভুক্তভোগীদের নাম ভুলে চলে গেছে। অভিযোগ ও তদন্তের সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না।তাই এই বিষয়ে বিস্তারিত জানি না।তবে এইরকম ভুল কখনোই কাম্য নয়।