ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

হাইতির প্রেসিডেন্টের ‘প্রধান সন্দেহভাজন’ খুনি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:৫৫, ১২ জুলাই ২০২১
হাইতির প্রেসিডেন্টের ‘প্রধান সন্দেহভাজন’ খুনি গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত

হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেন মোসে হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন খুনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করছে সে দেশের পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া পুলিশের দাবিকৃত ওই মাস্টারমাইন্ডের নাম ক্রিস্টিয়ান ইমানুয়েল স্যানন।

হাইতির পুলিশ সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছে, ৬৩ বছর বয়েসী চিকিৎসক ক্রিস্টিয়ান ইমানুয়েল স্যানন হাইতিয়ান-আমেরিকান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। গত জুনে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে হাইতিতে ফেরেন।

রোববার হাইতির রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্সে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ স্যাননের গ্রেফতারের খবর ঘোষণা করেন। হাইতির পুলিশ প্রধান লিওন চার্লস বলেন, তিনি একজন ব্যক্তি যে এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা বা পরিকল্পনাকারী। তিনি গত জুনে প্রাইভেট বিমানে হাইতিতে ঢুকেছিলেন।

Advertisement

পুলিশ প্রধান বলেন, স্যাননের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল প্রেসিডেন্ট জোভেন মোসেকে আটক করা। কিন্তু ওই পরিকল্পনা কাজ না করায় মিশন পরিবর্তন করা হয়। পুলিশ প্রধান অবশ্য অন্যান্য বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।

পুলিশ প্রধান চার্লস লিওন আরো বলেন, যখন আমরা এ ঘটনার পর খুনিদের ধরা শুরু করলাম, তখন প্রথম দিকে ধরা পড়াদের একজন মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ক্রিস্টিয়ান ইমানুয়েল স্যাননের নাম বলে।

ক্রিস্টিয়ান ইমানুয়েল স্যাননের সঙ্গে আরও দুইজন ব্যক্তি পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছে বলেও জানান পুলিশ প্রধান। তবে তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে গত শুক্রবার হাইতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একদল কর্মকর্তা পৌঁছান। হাইতি ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মিলে একটি আন্তঃগোয়েন্দা দল গঠন করা হয়। ওই দলটি প্রেসিডেন্ট জোভেন মোসে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে।

এর আগে গত বুধবার রাতে পোর্ট অব প্রিন্সের প্রেসিডেন্টের বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে একদল ঘাতক। এতে ফার্স্ট লেডি মার্টিনা মোসেও গুরুতর আহত হন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

শুক্রবার হাইতির পুলিশ প্রধান লিওন চার্লস এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার কিছু তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেন মোসেকে খুন করেছে একটি বিদেশি ঘাতকদল। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কিছু সেনা এ ঘাতকদলের সদস্য। এছাড়া এ দলে দুজন হাইতিয়ান-আমেরিকানও ছিল। তবে ঘটনার ‘মাস্টারমাইন্ডদের’ পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

পুলিশ প্রধান জানান, ঘাতকদলে মোট ২৬ কলম্বিয়ান অবসরপ্রাপ্ত সেনা ছিল। আরও ছিল দুজন হাইতিয়ান-আমেরিকান। ওই দুই আমেরিকানসহ ১৭ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। আট ঘাতক এখনও পলাতক। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এর বাইরে অন্য সন্দেহভাজন কয়েকজনকে বৃহস্পতিবার রাজধানী পোর্ট-অব-প্রিন্সে শুটআউটে হত্যা করেছে পুলিশ।

কলম্বিয়া সরকার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জোভেন মোসের হত্যাকারীদের ধরতে হাইতিকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হচ্ছে। ওই ঘাতকদলের কমপক্ষে ছয়জন সদস্য দেশটির অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সদস্য নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। কলম্বিয়ার একটি তদন্ত দলও শুক্রবার হাইতির রাজধানী পোর্ট অব প্রিন্সে পৌঁছায়।

রোববার হাইতির পুলিশ প্রধান সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে জানান, চিকিৎসক স্যানন হাইতিতে ফিরে কলম্বিয়ার এসব ভাড়াটে খুনিদের একটি সিকিউরিটি এজেন্সির মাধ্যমে ভাড়া করেন।

প্রেসিডেন্টের হত্যাকাণ্ডের পর হাইতির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। দেশটির শহর থেকে গ্রামে প্রতিবাদ মিছিল, বিক্ষোভ ও নানা কর্মসূচি সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। দেশটিতে একাধিক দাঙ্গার ঘটনা ঘটছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!