তুরস্ক ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, পানির সংকট তীব্র রূপ নেয়ায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরেই আন্দোলন চলছে শহরটিতে। গত ৯ নভেম্বর আন্দোলন শুরুর পর শুক্রবার প্রথম সহিংস হয়ে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা। সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ইরান পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান কারামি জানান, শুক্রবারের কর্মসূচিতে দুই থেকে তিন হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
.png)
ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স ও আইএসএনএ জানিয়েছে, ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় মালভূমির সবচেয়ে বড় নদী জায়ান্দিরুদের তীরে নদীটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ইসফাহান শহর। নদীটি শুকিয়ে যাওয়ায় বহুমুখী সংকটে রয়েছেন বাসিন্দারা।
এমন পরিস্থিতিতে নদীটির বুকে বিক্ষোভে অংশ নেয় হাজারো মানুষ। শুক্রবারের বিক্ষোভ থেকে পুলিশের দিকে পাথর ছোড়া থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। অনেক জায়গায় অগ্নিসংযোগও করে তারা। সে সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তবে পরদিন শহরের পরিস্থিতি শান্ত ও রাস্তাঘাট থমথমে বলে জানান বাসিন্দারা। শহরের খাদজু সেতুতে মোতায়েন ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য।
ইরানের রাজধানী তেহরানের ৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ইসফাহানে দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন নগরী। শহরে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকলার নিদর্শন বেশ কিছু মসজিদ ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এর মধ্যে অন্যতম হলো জায়ান্দিরুদ নদীর খাদজু সেতু।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভের জেরে কৃষকদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার পানিবণ্টন চুক্তিতে পৌঁছেছে স্থানীয় প্রশাসন।
খরা ছাড়াও ইসফাহানে পানি সংকটের অন্যতম কারণ প্রতিবেশী ইয়াজদ্ প্রদেশে জায়ান্দিরুদ নদীর পানির গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়া। ওই প্রদেশটিও তীব্র পানি সংকটে ভুগছে।