অবশ্য ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় এই শহরটি রাশিয়ার দখলে রয়েছে এবং জাহাজে হামলা ও ধ্বংসের বিষয়ে রুশ সামরিক বাহিনী এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, আজভ সাগরে নোঙর করা রাশিয়ার বড় আকারের জাহাজ ‘ওরস্ক’-এ বৃহস্পতিবার সকালে হামলা করা হয় এবং এতে জাহাজে আগুন ধরে যায়।
.png)
ফেসবুক পোস্টে আরো বলা হয়েছে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর কৃষ্ণসাগর ফ্লিটের ওরস্ক নামের বৃহৎ আকারের ওই জাহাজটি রুশ দখলকৃত বারদিয়ানস্ক বন্দরে ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাশিয়ার একটি জাহাজ ডুবে গেছে এবং অন্য দুইটিতে আগুন ধরে গেছে। এছাড়া গোলাবারুদের একটি ডিপো এবং একটি জ্বালানি গুদামেও হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। যদিও অন্যান্য সূত্র থেকে এসব খবর নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এদিকে রুশ জাহাজে হামলা ও আগুন ধরে যাওয়ার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের নৌবাহিনী। ছবিতে আগুন ধরে যাওয়া একটি জাহাজ থেকে ধোয়া উঠতে দেখা যায়। অবশ্য রুশ ওই জাহাজে ঠিক ঘটেছে সে বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি রাশিয়া।
আরো পড়ুন: কিয়েভে রুশ সাংবাদিক নিহত
রাশিয়া কয়েক সপ্তাহ আগে বারদিয়ানস্ক শহরটি দখল করে এবং বর্তমানে সেখানকার বন্দরটি জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহার করছে। এটি ক্রিমিয়া ও অবরুদ্ধ শহর মারিউপোলের মধ্যে অবস্থিত। অন্যদিকে বারদিয়ানস্ক শহরটি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে এপি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়ান সৈন্যরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে। একসঙ্গে তিন দিক দিয়ে হওয়া এই হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে বৃষ্টির মতো।
সর্বাত্মক হামলা শুরুর পর এক সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির বহু শহর কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরর তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ৩০ লাখেরও বেশি ইউক্রেনীয়।