মার্কিন সরকারের অর্থায়নে চালিত গণমাধ্যম রেডিও ফ্রি এশিয়া (আরএফএ) এসব তথ্য জানিয়েছে।
গণমাধ্যমটি জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে নায় মায়ো জান্তা-বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলে আশ্রয় নেন। সেখানে এসে গণহত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। একইসঙ্গে গণহত্যা নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
.png)
নায় মায়ো বলেন, রাখাইনে যা হয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য ছিল। আমি আমার সহকর্মীদের এ কথা বলেছিলাম। কিন্তু তারা বিশ্বাস করতো, রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে হবে। কারণ যারা সন্ত্রাসী হামলা করেছে তাদের সমর্থন দেয় এ রোহিঙ্গারা। তাই তাদের তাড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি আসবে না।
অর্থাৎ, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা পুরো একটি জাতিগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করার ইচ্ছা পোষণ করতো। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার যে আন্তর্জাতিক অভিযোগ রয়েছে তা সমর্থন করেন বলেও জানান নায় মায়ো। সামরিক বাহিনীই রাখাইনের বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিভেদ তৈরির জন্য দায়ী। তারাই এ বিদ্বেষের বীজ বপন করেছে। আমাকে যদি আন্তর্জাতিক অপরাধী আদালতে ডাকা হয়, আমি সেখানে যাব এবং যা যা জানি সব প্রকাশ্যে নিয়ে আসব।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে রাখাইনে বড় মাত্রায় অভিযান চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ঐ বছরই ৯০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ২০১৭ সালে অভিযান তীব্র করা হলে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে বাংলাদেশ সীমান্তে। ঐ বছর ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
আরএফএকে নায় মায়ো জানান, সেনারা রাখাইনে যা করেছে তাতে সেখানে গণহত্যা সংগঠিত হয়েছে। হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধী আদালতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যে মামলা চলছে তাতে সাক্ষ্য দেবেন তিনি।
নিজের ব্যাকগ্রাউন্ড তুলে ধরে মিয়ো থেট জানান, ২০০৬ সালে মিয়ানমারের পিন-ও-লুইন একাডেমিতে যোগ দেন। এরপর ২০০৮ সালে সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন। প্রথম দিকে তাকে কায়িন ও কাচিন রাজ্যে মোতায়েন করা হয়। তবে ২০১৫ সালে তাকে রাখাইনে পাঠানো হয়, ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সেখানেই দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নায় মায়ো জানান, ২০১৬ সালে একটি সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে প্রথম অভিযান শুরু করেন তারা। ২০১৭ সালে আরসা’র আরেক হামলার পর বড় অভিযান চালানো হয়। আমরা অভিযানে গিয়ে দেখি, সেখানে কিছুই আর বাকি নেই। স্থানীয়রা প্রায় সবকিছুই নিয়ে চলে গেছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কে তথ্য দিয়ে নায় মায়ো বলেন, এক অভিযানে সেনারা গ্রামগুলোতে ছুরি বা এ ধরণের অস্ত্র খুঁজতে অভিযান চালিয়েছিল। সেখানে এক সেনা কর্মকর্তা রোহিঙ্গা মেয়েদের নগ্ন হওয়ার নির্দেশ দেন। পরে আরেক সদস্যের কাছ থেকে আমি জানতে পারি, তার এক সহকর্মী রোহিঙ্গা নারীকে ধর্ষণ করেছে। তবে তার নাম আমার এখন মনে নেই। এছাড়া একটি ছোট ছেলেকে কুয়ার মধ্যে ফেলা হয়। ধীরে ধীরে নির্মম সব ঘটনা আমি জানতে পারি। গ্রামবাসীকে তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয় এবং যারা দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। আর বেশিরভাগ মরদেহকেই তাদের গ্রামের কাছেই পুঁতে ফেলা হয়।