রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে মিয়ানমারকে আহ্বান জানাল জাতিসংঘ
জান্তা শাসিত দেশ মিয়ানমার সফর করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত নেলিন হেইজার। এ সময় তিনি জান্তা সরকারকে সংঘাত বন্ধ ও রাজবন্দীদের মুক্তির আহ্বান জানান।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথমবার জান্তা সরকার পরিচালিত দেশ মিয়ানমার সফর করেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত নেলিন হেইজার।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সংসদ বসার আগেই নির্বাচিত নেতা অং সান সুচি এবং বেসামরিক সরকারের সদস্যদের আটক করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।
.png)
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এসিসেটেন্ট এসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস জানায়, সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে সুচির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে তাকে সাজা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এছাড়া হাজার হাজার অধিকার কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। দুই হাজারের বেশি ভিন্ন মতাবলম্বী লোক সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন।
গত মাসে চারজন রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সামরিক সরকার যা দেশটির ৩০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার হয়েছে। এদের মধ্যে সুচির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেডিক পার্টির সাবেক আইন প্রণেতা পিও জেয়া থাও রয়েছেন।
জাতিসংঘের দূত নেলিন সেনাবাহিনীর নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বুধবার সাক্ষাৎ করেছেন। নেলিনের অফিস জানিয়েছে, ভবিষ্যতে সব শাস্তি কার্যকর স্থগিত করতে সরাসরি জান্তা সরকারের প্রধানকে আহ্বান করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত।
এ সময় তিনি মিয়ানমারে সবধরনের সংঘাত ও রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের সহকারী মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, জাতিসংঘের বিশেষ দূত অং সান সুচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা করতে সক্ষম হননি।
জাতিসংঘের এ সহকারী মুখপাত্র নেলিন ও মিয়ানমারের সামরিক প্রধানের সাক্ষাতকে ভালো আলোচনা হিসেবে উল্খে করেছেন। এখন তারা জাতিসংঘ তার প্রধান দাবিগুলো করছে কিনা তা দেখা হচ্ছে। জাতিসংঘ উল্লেখিত বিষয়গুলো ওপর জোর দেবে।
এসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশন্সের (এশিয়ান) কূটনীতিবিদদের চেষ্টায় মিয়ানমারের সংকট কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে গত বছর যে শান্তি বাস্তবায়নের যে সম্মতি প্রদান করা হয়েছিল তা মানতে নারাজ সামরিক প্রধান।
যখন নেলিন মিয়ানমার সফর করছিলেন তখন আঞ্চলিক সভা থেকে ১০ সদস্যের একটি জেনারেলের দলকে অতিরিক্ত চাপ আনার অভিযোগে বের করে দেন সামরিক প্রশাসনের একজন মুখপাত্র।
১৯৯৭ সালে আশিয়ানে যুক্ত হয় মিয়ানমার। সংস্থাটির কিছু সদস্য রাষ্ট্র বলছে, যদি জান্তা সরকার তাদের সংঘাত অব্যাহত রাখে তবে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হবে।