বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরে থাকার ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে ২০০৪ সালে দ্য টার্মিনাল নামের একটি চলচ্চিত্র তৈরি হয়। সেই চলচ্চিত্রে টম হ্যান্কস অভিনয় করেন।
মেহরানের বিমানবন্দরে থাকার গল্পটা বেশ বেদনাদায়ক। ১৯৪৫ সালে ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে জন্ম নেয়া এ ইরানি হারিয়ে যাওয়া মাকে খুঁজতে ইউরোপে আসেন। প্রথমে কয়েক বছর বেলজিয়াম থাকেন তিনি। সেখান থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়। পরে যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ড, জার্মানিতে বৈধ কাগজ না থাকায় থাকতে পারেননি। পরে ফ্রান্সে গিয়ে ঐ বিমানবন্দরের ২এফ টার্মিনালে আশ্রয় নেন তিনি । সেখানেই শুরু করেন বসবাস।
.png)
মেহরান বেঞ্চে বসবাস করতেন। বেঞ্চের চারপাশে ট্রলি দিয়ে ঘেরা ছিল। সেখানে তার জমানো জিনিসপত্রও রাখা হয়েছিল। একটি নোট বুকে নিজের জীবনী লিখে এবং পত্রিকা পড়ে সময় কাটাতেন তিনি।
তার এ বেদনাদায়ক গল্প আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং মেহরান স্টিফেন স্পাইলবার্গের নজরে আসেন। এ গল্পে অনুপ্রাণিত হয়ে অভিনয়শিল্পী হ্যান্কস, ক্যাথরিন জেটা-জোনস নিয়ে দ্য টার্মিনাল চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন স্টিফেন।
লি পার্সিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর ইরানি মেহরানের সঙ্গে কথা বলতে জড়ো হন সাংবাদিকরা। তখন তিনি দিনে ছয়টি সাক্ষাৎকার দিতেন।
ফ্রান্সের পত্রিকা লিবারেশন জানায়, ১৯৯৯ সালে শরণার্থী হিসেবে থাকার অনুমতি এবং ফ্রান্সে থাকার অধিকার দেওয়ার পর মেহরান ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিমানবন্দরে ছিলেন। পরে অসুস্থতার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তিনি চলচ্চিত্র থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে হোস্টেলে থাকেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ফের বিমানবন্দরে চলে আসেন মেহরান। সেখানে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বসবাস করেন।