শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি এসেছে ১.৬ শতাংশ। যেখানে এক বছর আগের এ সময়ে ১১.৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছিল।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ঘাটতির কারণে গত বছর ঋণখেলাপি হয় শ্রীলংকা। এর আগে থেকেই অর্থনীতি ছিল সংকোচনে।
.png)
শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে পরিবহন, সেবা এবং কৃষি খাতের অগ্রগতি। তবে এ মাসে ইতিবাচক ডাটা দেখা গেলেও এ বছরের ৯ মাসের হিসাবে এখনো অর্থনীতি ৪.৯ শতাংশ সংকোচনে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলেছে, ২০২৩ সালের পুরো বছরের হিসাবে শ্রীলংকার জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে নেতিবাচক ৩.৬ শতাংশ। গত মঙ্গলবার আইএমএফ শ্রীলংকাকে দেওয়া ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি ৩৩৭ মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে। দেশটিকে চার বছরে মোট ২.৯ বিলিয়ন ডলার দেবে ঋণদাতা সংস্থাটি। আইএমএফের মতে, শ্রীলংকার অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরছে তবে দেশটি এখনো শঙ্কামুক্ত নয়।
২০২১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের পর থেকে টানা ৯ প্রান্তিকে সংকুচিত হয় শ্রীলংকার অর্থনীতি। গত বছরের এপ্রিলে দুই কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার এ দ্বীপদেশটি ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়। এমনকি প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি আমদানি করার জন্য প্রয়োজনীয় রিজার্ভ তাদের হাতে ছিল না। ২০২২ সালের মে মাসে নিজেদের ঋণখেলাপি ঘোষণা করে দেশটির সরকার। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রীলংকায় মাসের পর মাস ধরে মানুষ বিক্ষোভ করে।
তাদের প্রতিবাদ ছিল দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে। এই সংকটের কারণে তত্কালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান।
বর্তমানে দেশটির মূল্যস্ফীতি যেমন কমে এসেছে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধও শুরু করেছে শ্রীলংকা। বাংলাদেশের কাছে তার যে ঋণ ছিল তা-ও পরিশোধ করেছে।
সূত্র: এএফপি