যুদ্ধবিরতি আলোচনার আগে গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৭
গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বুধবার ভোরে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। হামলায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। মিসরে যুদ্ধবিরতি আলোচনার আগে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটল। বুধবার (৮ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এএফপি।
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গাজায় ফিলিস্তিনি, জিম্মি ও তাদের পরিবারের অসহনীয় দুর্ভোগ বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইসরায়েল ও হামাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গাজায় শান্তির জন্য কয়েক সপ্তাহের তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা যদি যুদ্ধবিরতি না দেয় তাহলে তা হবে দুঃখজনক। জিম্মিদের মুক্তি নেই এবং রাফায় একটি বিধ্বংসী আক্রমণ হচ্ছে।
.png)
গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
মঙ্গলবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান আক্রমণে এ পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৪ হাজার ৭৮৯ জনে পৌঁছেছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি দখলদার (বাহিনী) গাজা উপত্যকায় পরিবারগুলোর ওপর ছয়টি গণহত্যা চালিয়েছে এবং এতে করে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ জন শহীদ এবং আরও ৯৬ জন আহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, গত সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই হামলায় আরো ৭৮ হাজার ২০৪ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন এবং উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।