রোববার (১১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনরায় নিজের পক্ষে না এলেও ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা আকড়ে ধরে আছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তাই তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তারই অংশ হিসেবে মাদুরো ও দেশটির শীর্ষ লেফটেন্যান্টদের বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসের যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেসব থেকে তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করার বিষয়ে গোপনে আলোচনা করেছে ওয়াশিংটন।
.png)
এ বিষয়ে জানাশোনা আছে এমন তিনজন ব্যক্তি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, জানুয়ারিতে মাদুরোর বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যেন তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দেন, সে জন্য সব ধরনের চেষ্টা করছে বাইডেন প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মিত্রদের সঙ্গে মিলিত হয়ে আমেরিকার সর্বত্র কোকেন ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন মাদুরো। ২০২০ সালে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সহায়তা করতে পারে এমন তথ্য দিলে দেড় কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে দেশটি।
সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার কংগ্রেসের সভাপতি ও মাদুরোর অনুগত জর্জ রদ্রিগেজ এবং হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ভেনেজুয়েলা বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ড্যানিয়েল পি এরিকসনের মধ্যে ভার্চুয়ালি আলোচনা হয়েছে। মাদুরো যদি মার্কিন প্রস্তাবে রাজি হয় তাহলে পশ্চিমা তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনিজুয়েলা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না বলেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে এবারই প্রথমবারের মতো মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এমন প্রস্তাব দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর কাতারের রাজধানী দোহায় গোপন এক আলোচনার সময় মাদুরোকে সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে ক্ষমতা ছাড়তে হবে এমন কোনো ধরনের প্রস্তাবে রাজি হন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুলাই ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট হয়। ভোট গণনা শেষে নিকোলাস মাদুরোকে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে তিনি দেশটির ক্ষমতায় আছেন।
তবে ভেনেজুয়েলার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন বিরোধীরা। তারা বলছেন, ফলাফলে জালিয়াতি হয়েছে। তাদের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেজ নির্বাচনে ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বেশ কয়েকটি বুথ ফেরত জরিপেও তার জয়ের আভাস দেওয়া হয়েছিল।