ইরানের সর্বোচ্চ নেতা প্রক্সি না থাকার বিষয়টি অস্বীকার করলেও বিশ্বজুড়ে, এমনকি খোদ ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিজেদের নেতৃত্বের প্রতিরোধ অক্ষের কথা স্বীকার করে থাকে।
প্রতিরোধ অক্ষ বা রেজিস্ট্যান্স এক্সিস বলতে সাধারণত, মধ্যপ্রাচ্যের একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও সামরিক জোটকে বোঝানো হয়। যা ইসরায়েল এবং পশ্চিমা শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গঠিত। এই অক্ষটি—ইরান, সিরিয়া, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীসহ অন্যান্য কিছু গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত।
.png)
রোববার ইসলাম ধর্মের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর কন্যা হজরত ফাতিমার (রা. ) জন্মবার্ষিকীতে একটি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় আয়াতুল্লাহ খামেনি এ কথা বলেন। সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সর্বোচ্চ নেতা চলমান চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশে একটি ‘শক্তিশালী ও সম্মানজনক’ আন্দোলন আবির্ভূত হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
সাক্ষাতের সময় খামেনি বলেছেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের কোনো প্রক্সি বাহিনী নেই। ইয়েমেন লড়াই করছে, কারণ তাদের বিশ্বাস আছে। হিজবুল্লাহ লড়াই করছে, কারণ বিশ্বাসের শক্তিই তাদের যুদ্ধে মাঠে টেনে আনে। হামাস এবং (ইসলামি) জিহাদ লড়াই করছে, কারণ বিশ্বাসই তাদের তা করতে বাধ্য করছে। তারা আমাদের প্রক্সি হিসাবে কাজ করে না।
ইরানের সর্বোচ্চ এই নেতা বলেন, আমেরিকানরা বলেছেন, ইরান এই অঞ্চলে তার প্রক্সি বাহিনী হারিয়েছে! এটি আরেকটি ভুল। তিনি বলেন, আমরা যদি পদক্ষেপ নিতে চাই, তাহলে আমাদের প্রক্সি বাহিনীর প্রয়োজন নেই।
চলতি মাসের শুরুর দিকে সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিদ্যুৎগতির হামলার মুখে রাজধানী দামেস্কের পতন ঘটে। এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় তেহরানের মিত্র বাশার আল-আসাদ পরিবারের কয়েক দশকের শাসনের অবসান ঘটেছে।
খামেনি সিরিয়ায় শক্তিশালী, সম্মানিত একটি গোষ্ঠীর উত্থানের বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছেন, দেশটির যুবকদের হারানোর কিছু নেই।
যার বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট এবং জীবন অনিরাপদ; তার কী করা উচিত? যারা এই নিরাপত্তাহীনতার পরিকল্পনা করেছে এবং যারা এটি বাস্তবায়ন করেছে তাদের বিরুদ্ধে তাকে শক্তি নিয়ে দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে দাঁড়াতে হবে এবং সৃষ্টিকর্তা চাইলে তারা জয়ী হবেন।