নেপালের ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১২৭ জনে পৌঁছেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
.png)
পুলিশ জানিয়েছে, বন্যার উৎপত্তিস্থল রাসুয়া জেলা থেকে ৪৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নুয়াকোট থেকে ১৫৫টি, ধাদিং থেকে ৫৯টি, চিতাওয়ান থেকে ৩৪৮টি, গোর্খা থেকে ৬৬টি, তানাহুন থেকে ৩৮টি, নাওয়ালপারাসি পূর্ব থেকে ২১৭টি এবং নাওয়ালপারাসি পশ্চিম থেকে ১৯০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী ভারত থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে আরও ৯টি মরদেহ।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ১ হাজার ১১৩টির ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে ৯১১টি মরদেহের বিস্তারিত তথ্য পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। যাদের স্বজনরা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, তারা ওই তথ্যের মাধ্যমে প্রিয়জনদের শনাক্ত করতে পারবেন।
বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় ৭ হাজার ৯১২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি তারা ত্রাণ বিতরণ এবং মরদেহ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কাজও করছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গত এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৪১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও ৪ হাজার ৮৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
আরও বন্যার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ চলছে। এ কাজে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও অংশ নিয়েছে।
গত বুধবার সকালে ভয়াবহ এই আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের সঙ্গে বড় বড় পাথর নিচু এলাকায় নেমে আসায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
দুর্যোগের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো হাজারো মানুষ নিখোঁজ থাকায় তাদের বেঁচে থাকা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।