ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]
বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের সমীকরণ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে শত শত লোক হতাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:৩৫, ২২ মার্চ ২০২৬
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে শত শত লোক হতাহত
ফাইল ফটো

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর সাম্প্রতিক ধাপে শত শত ইসরায়েলি নিহত বা আহত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) এক বিবৃতিতে তারা জানায়, অভিযানের ৭৩তম ঢেউয়ে অধিকৃত অঞ্চলের দক্ষিণ ও উত্তর উভয় অংশকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর আরাদ, ডিমোনা, ইলাত, বের শেভা এবং কিরিয়াত গাত-এর সামরিক স্থাপনা ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের আলি আল-সালেম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ও আল-ধফরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করে তারা।

এই ধাপে ফাত্তাহ, কদর এবং এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

Advertisement

হতাহতের খবর ও গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ

বিবৃতিতে মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রতিশোধমূলক হামলার সাম্প্রতিক ধাপের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় ২০০-এর বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা ধামাচাপা দিতে জায়নবাদী কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ওপর সেন্সরশিপের চাপ বাড়িয়েছে।

হিজবুল্লাহর ভূমিকার প্রশংসা

আইআরজিসি লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের ‘গৌরবময় প্রচেষ্টার’ প্রশংসা করে বলেছে যে, তারা লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি অধিকৃত অঞ্চলের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে একটি ‘কঠিন ও উচ্চ-চাপের যুদ্ধক্ষেত্র’ তৈরি করেছে।

বিবৃতিতে লেবাননের জনগণ ও এই অঞ্চলের মুসলিমদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

যুদ্ধের সমীকরণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত

আইআরজিসি দাবি করেছে, যুদ্ধের সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং অধিকৃত অঞ্চলের প্রতিরক্ষায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ছে। অধিকৃত অঞ্চলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ ও পরিত্যক্ত’ বলে বর্ণনা করে তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার উস্কানিমূলক নীতিকে এর জন্য দায়ী করেছে।

ডিমোনায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ব্যাপক সেন্সরশিপ থাকার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে যে এই হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে। উল্লেখ্য, ডিমোনা শহরটি তার আশেপাশে বিতর্কিত ডিমোনা পারমাণবিক চুল্লির কারণে অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। সরকারিভাবে প্রায় ৫০ জন আহতের কথা বলা হলেও সেখানে কয়েক ডজন অ্যাম্বুলেন্স এবং বেশ কয়েকটি সামরিক হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের দেওয়া হতাহতের সংখ্যাকে সত্যের কাছাকাছি বলে ইঙ্গিত দেয়।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ জানিয়েছে, ইরানি প্রতিশোধের কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তাদের তথাকথিত হোম ফ্রন্ট সবচাইতে কঠিন রাত পার করেছে। ওই দিন থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের বিনা উস্কানিতে চালানো আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিরবচ্ছিন্ন ও চূড়ান্ত পাল্টা হামলা শুরু করেছিল।

সূত্র: প্রেস টিভি

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!