শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দিনের লেনদেনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫ সেন্ট বা ০.২ শতাংশ বেড়ে ৯৫ দশমিক ৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২৬ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ৫৬ ডলারে উঠেছে।
.png)
গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এ হিসাবে জুলাইয়ের মাঝামাঝির পর চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উত্থান হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা তেলের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। এর আগে মঙ্গলবার নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরু হলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একদিনে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেল উৎপাদন ও পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি হতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও পণ্য পরিবহন ব্যয়ে।
জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দাম বাড়তে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে এবং তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এতে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তাই এখন শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়; বরং এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও।