ঢাকা,  শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

বিমানবন্দরে শিকে স্বাগত জানাবেন ট্রাম্প

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:০৯, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিমানবন্দরে শিকে স্বাগত জানাবেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

এক দশকেরও বেশি সময় পর চীনের কোনো শীর্ষ নেতা রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে পৌঁছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। দুই দেশের সম্পর্ক, বাণিজ্য, শুল্ক, বিরল খনিজ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার শি চিনপিংকে বহনকারী বিমান ওয়াশিংটনের কাছের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণ করবে। সেখানে ট্রাম্প নিজেই তাকে স্বাগত জানাবেন। বিদেশি কোনো নেতাকে বিমানবন্দরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি স্বাগত জানানোর ঘটনা বিরল।

Advertisement

বৃহস্পতিবার শির আনুষ্ঠানিক সফর শুরু হবে। এদিন ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে শি চিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিউয়ানকে স্বাগত জানাবেন। এরপর ট্রাম্প ও শি সামরিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন। সন্ধ্যায় শি ও পেংয়ের সম্মানে হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হবে।

নৈশভোজে প্রযুক্তি খাতের বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অতিথিদের তালিকায় রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, টেসলা ও স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক, গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, ডেল টেকনোলজিসের সিইও মাইকেল ডেল, এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং, ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান, সিটিগ্রুপের সিইও জেন ফ্রেজার এবং অ্যাপলের সাবেক সিইও টিম কুক।

শুক্রবার শি চিনপিং ও পেং লিউয়ান আবার হোয়াইট হাউসে যাবেন। সেখানে ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত চা-আড্ডার পর তারা ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শন করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও প্রতিষ্ঠাকালীন নথি সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে। দেশটির ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতির মধ্যেই এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শির সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়—এমন কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে দুই দেশ আলোচনা করতে পারে। তবে কোন কোন পণ্যে শুল্ক কমানো হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বিরল খনিজের সরবরাহও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। বিশ্ববাজারে এসব খনিজের বড় অংশের সরবরাহ চীনের নিয়ন্ত্রণে। স্মার্টফোন, গাড়ি থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতেও এসব খনিজ ব্যবহৃত হয়। তবে এসব খনিজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করবে—এমন কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা কম বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় ওই আলোচনায় দুই দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের পাশাপাশি বিরল খনিজ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও আলোচনায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধে শুল্ক, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং বিরল খনিজের সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। ফলে শি চিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন বৈঠকে এসব বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে শি চিনপিং সর্বশেষ ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়েছিলেন। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন বারাক ওবামা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!