ঢাকা,  বুধবার   ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

শান্তিতে নোবেল: ট্রাম্পসহ আলোচনায় যারা

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:৩০, ৭ অক্টোবর ২০২৬
শান্তিতে নোবেল: ট্রাম্পসহ আলোচনায় যারা
সংগৃহীত ছবি

বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে তীব্র সংঘাত ও মানবিক সংকটের আবহেই আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার। নরওয়ের অসলো থেকে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস এই বছরের বিজয়ীর নাম বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবেন।

এবারের পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন রয়েছে। তবে কারা মনোনয়ন পেয়েছেন, তার আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করে না নোবেল কমিটি। নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়ন-সংক্রান্ত নথি ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ফলে পুরস্কার ঘোষণার আগে যেসব নাম সামনে আসে, সেগুলোর অনেকটাই মনোনয়নদাতা, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভরশীল।

শেষ মুহূর্তে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংগঠন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আদালত, সাংবাদিক অধিকার সংগঠন, ধর্মীয় নেতা এবং এমনকি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের নামও।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে এ বছরের আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পোপ লিও যুদ্ধ বন্ধ, সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময়ে তার শান্তির আহ্বান তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় এনেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ভূমিকার কারণে আইসিসি ও আইসিজির নামও আলোচনায় রয়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কারের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান- এ কারণে দুই আন্তর্জাতিক আদালতকে স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন কিছু বিশ্লেষক।

অন্যদিকে গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানের কারণে আলবানিজের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে তার প্রার্থিতা অত্যন্ত রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন দেশের নেতারা তাকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তবে নোবেল কমিটি এসব মনোনয়ন নিশ্চিত করে না।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে করেছেন। তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘিরে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে তৈরি বিতর্ক এ বছরের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলতে পারে।

২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেলজয়ী ভেনেজুয়েলার মারিয়া কোরিনা মাচাদো পরে তার নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দেওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এবার কমিটি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না, যা পুরস্কারকে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে যাবে- এ নিয়েও আলোচনা চলছে।

আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের ‘ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমসে’র নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। কারণ ২০২৩ সালে সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের গড়ে তোলা এই নেটওয়ার্ক বিভিন্ন এলাকায় মানুষের জন্য খাবার, চিকিৎসা, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে স্থানীয় নাগরিকদের এসব উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট অসলো (পিআরআইও)-এর পরিচালক হাকন গ্যেরলভের ২০২৬ সালের আলোচিত তালিকাতেও সুদানের ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমস’ রয়েছে।

ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবা এবং তার সংগঠন ‘সেইভ ইউক্রেনে’র নামও আলোচনায় রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া ইউক্রেনীয় শিশুদের উদ্ধারে ও পরিবারগুলোর সঙ্গে পুনর্মিলনে তার সংগঠন কাজ করেছে।

পিআরআইও-এর তালিকায় কুলেবা ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক ‘সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেনকে’ও রাখা হয়েছে। যুদ্ধের সময় শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকারকে সামনে নিয়ে আসার মাধ্যমে শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার পক্ষে এটি একটি সম্ভাব্য বার্তা হতে পারে বলে পিআইআইও জানিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনাও এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের আলোচনায় এসেছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছে কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিজম (সিপিজে)।

পিআরআইও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১৩২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন- যা রেকর্ড রাখা শুরুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ বছরগুলোর একটি। বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের প্রেক্ষাপটে সিপিজে-এর নাম আলোচনায় এসেছে।

এবারের আলোচনায় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত নামগুলোর একটি ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (আইএসএস)। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ, জাপান ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের যৌথভাবে পরিচালিত এই মহাকাশ স্টেশনকে পৃথিবীর বাইরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পিআরআইও-এর পরিচালক গ্যেরলভের ২০২৬ সালের তালিকাতেও আইএসএস রয়েছে। তার যুক্তি, পৃথিবীতে ভূরাজনৈতিক বিভাজন বাড়লেও মহাকাশে এই প্রকল্প দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতার নজির তৈরি করেছে।

এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সময় বিশ্বজুড়ে একাধিক বড় সংঘাত চলছে। ইউক্রেন, সুদান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়েও বিতর্ক বাড়ছে।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সচিব ক্রিস্তিয়ান বের্গ হারপভিকেন সম্প্রতি রয়টার্সকে বলেছেন, পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দিকে কমিটি গভীরভাবে নজর রাখছে। বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে এমন কিছু প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে, যা নোবেল শান্তি পুরস্কার যে মূল্যবোধকে ধারণ করে, সেগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করছে।

তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান সময়ে যারা নতুন ধরনের সহযোগিতা ও শান্তির কাঠামো গড়ে তুলছেন, তাদের কাজও কমিটির বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম বা নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর বিষয়ে তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনুমান করা কঠিন। অতীতেও এমন অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুরস্কার পেয়েছে, যাদের নাম ঘোষণার আগে আলোচনায় খুব বেশি ছিল না। এবারও তাই ট্রাম্প, পোপ লিও, আন্তর্জাতিক আদালত, ফ্রান্সেসকা আলবানিজ, সুদানের ইমারজেন্সি রেসপন্স রোমস, মাইকোলা কুলেবা ও সেভ দ্যা চিলড্রেন, সিপিজে কিংবা আইএসএস- এসব নামের বাইরে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

নোবেল কমিটি নিজেই বলছে, প্রকাশ্যে আসা সম্ভাব্য নামগুলোকে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ২৮৭টি মনোনয়নের মধ্যে কমিটি কোন নামকে শেষ পর্যন্ত বেছে নিয়েছে, তা জানা যাবে শুধু শুক্রবারের ঘোষণায়। সূত্র: রয়টার্স, হিন্দুস্তান টাইমস

ডেইলি-বাংলাদেশ/একেকে
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
eMythMakers
Transform Your Digital Presence
Enterprise-grade IT & Web Solutions
Our Expertise
Custom Web Dev News Portals Mobile Apps SEO & Marketing
Ready to Scale Up?
Partner with industry experts today.
Get Started Now
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!