ঢাকা,  রোববার   ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

ভারতে নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি চায় জাতিসংঘ

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩১, ১১ অক্টোবর ২০২৬
ভারতে নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি চায় জাতিসংঘ
সংগৃহীত ছবি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর। একই সঙ্গে নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ধরনের সমাবেশে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে।

বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়। ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার ওপর গুরুত্ব দেয় সংস্থাটি।

পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের উত্থাপিত দাবি ও উদ্বেগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অর্থবহ সংলাপে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তারা যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) দিল্লি পুলিশের সূত্রের বরাতে জানায়, বিক্ষোভস্থলে যাওয়ার পথে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় এক হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে প্রবেশ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি যানবাহনে তল্লাশি চালায় পুলিশ।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা নেহা বোরা। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া সিজেপির কর্মী অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং দলটির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিংকেও আটক করার খবর পাওয়া যায়।

আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, দেশের তরুণ সমাজ জেগে উঠেছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলনকারীদের দমিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাকে ও পাঁচ সংসদ সদস্যকে আটক করে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে কারাগারে ব্যবহৃত একটি গাড়িতে ঘোরানো হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে দিল্লি পুলিশ আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেয়। তবে সিজেপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বিক্ষোভের সময় আটক আইনজীবীদের মুক্তির বিষয়েও হস্তক্ষেপ করেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তার মৌখিক হস্তক্ষেপের পর আটক আইনজীবীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এর আগে আটক আইনজীবীদের মুক্তি নিশ্চিত করতে প্রধান বিচারপতির জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!