ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

মক্কা জোটের সঙ্গে শান্তি রক্ষায় কাজ করতে চায় ইরান

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৬, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
মক্কা জোটের সঙ্গে শান্তি রক্ষায় কাজ করতে চায় ইরান
তেহরান সফরে গেছে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধি দল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। তেহরানে দেশ তিনটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে সংলাপ অব্যাহত রাখা এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে সম্প্রতি গঠিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের’ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। সফরকালে প্রতিনিধিদলটি ইরানের প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় অংশ নেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি বিভাগের উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি জানান, চলমান সংকটে উত্তেজনা কমানো, সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতেই এ সফরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ক্রিমলি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনের তেহরানের আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

কূটনীতির ওপর গুরুত্ব তেহরানের

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিষয়ে আন্তরিক না হলেও তাঁর দেশ কূটনৈতিক সমাধানের পথ থেকে সরে আসেনি।

তেহরানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার নামে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ইরান কখনো কূটনীতির দরজা বন্ধ করেনি।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজস্ব উদ্যোগকেও স্বাগত জানান বাঘায়ি।

তিনি বলেন, অঞ্চলের দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ বিবেচনায় যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ইরান এ উদ্যোগকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।

তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা প্রয়োজন।

ইরানে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির দাবি

এদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যেই দেশটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

সোমবার মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার সক্ষমতা রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও পেন্টাগন সম্ভাব্য অভিযানের জন্য বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পরিকল্পনা করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি এবং জ্বালানি অবকাঠামো রয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন অভিযান পরিচালিত হলে তা আগের সীমিত হামলাগুলোর তুলনায় অনেক বিস্তৃত হতে পারে। পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তার ধারণা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বড় ধরনের সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিতে পারেন ট্রাম্প।

তবে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখা প্রতিরক্ষা বিভাগের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। পরিকল্পনা তৈরি হলেই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন নয়।

অন্যদিকে তাৎক্ষণিক হামলার সম্ভাবনা নাকচ করে রোববার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, সেদিন ইরানে কোনো হামলা চালানো হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই আঞ্চলিক দেশগুলোর এ কূটনৈতিক তৎপরতা পরিস্থিতি শান্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!