ফ্লাইট বিপর্যয়ে আটকে পড়া কর্মীরা সৌদিতে যেতে পারবেন
যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে যেতে না পারা এবং এর মধ্যে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে যেতে পারলে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁদের প্রবেশের তথ্য নিবন্ধিত হবে। এর মাধ্যমে তাঁরা দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকার ও এজেন্সিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব। একই সঙ্গে বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, তিন লাখ টাকায় যেখানে বিদেশে যাওয়া সম্ভব, সেখানে সাত থেকে আট লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বৈধ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় না করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের যাত্রাপ্রক্রিয়া সহজ করা ও ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালু এবং এ বিষয়ে প্রচারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এ সময় গন্তব্য দেশের আইনকানুন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি এ বিষয়ে কর্মীদের সচেতন করতে সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে প্রচার-প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।
প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সৌদি আরবে কারাবন্দী বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে সৌদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যকার সমস্যাগুলো যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে দেশটির নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা। দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে শ্রম খাতে আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আলোচনা সভায় বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা সহজ করা, পরীক্ষার ফি কমানো, বিএমইটির জনশক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার দাবি জানান।