ঢাকা,  শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

টাকা জমানো ‘অর্থহীন’, বললেন ইলন মাস্ক

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:২১, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
টাকা জমানো ‘অর্থহীন’, বললেন ইলন মাস্ক
বিশ্বের শীর্ষ ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক

ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমানো অর্থহীন হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবট প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলে পৃথিবীতে এমন প্রাচুর্য তৈরি হবে, যখন অর্থের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে।

গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যবহারকারীর পোস্টের জবাবে টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী মাস্ক লেখেন, অতি-বুদ্ধিমান প্রাচুর্যের আবির্ভাবে সুদূর ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমানো অর্থহীন। ওই ব্যবহারকারী ভবিষ্যতে প্রাচুর্যের যুগ আসবে—এমন ধারণার কথা উল্লেখ করে নিজের অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করার মন্তব্য করেছিলেন। মাস্ক তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

মাস্কের ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট ও উন্নত জ্বালানিপ্রযুক্তির সমন্বয়ে উৎপাদনশীলতা ব্যাপকভাবে বাড়বে। এতে পণ্য ও সেবার উৎপাদন খরচ কমে আসবে এবং মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, উন্নত চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ আরও সহজলভ্য হবে। একসময় মানুষের জীবনযাপনের জন্য প্রচলিত অর্থব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতাও কমে যেতে পারে।

এটি অবশ্য ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মাস্কের প্রথম এমন পূর্বাভাস নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘মুনশটস উইথ পিটার ডায়াম্যান্ডিস’ পডকাস্টে তিনি বলেছিলেন, আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের অবসরের জন্য টাকা জমানোর বিষয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করলেও চলবে। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটের অগ্রগতি মানুষের কাজের ধরন বদলে দেবে এবং একসময় অর্থের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনবে।

তবে মাস্কের মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, বিপুল সম্পদের মালিক একজন ব্যক্তির পক্ষে সাধারণ মানুষকে সঞ্চয় না করার পরামর্শ দেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কর্মসংস্থান কমে গেলে এবং সম্পদ অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হলে বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা হলো, প্রযুক্তিগত উন্নতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এখনই নিশ্চিত নয়। তাই মাস্কের বক্তব্যকে ব্যক্তিগত আর্থিক পরামর্শ হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে কিন্তু সেই পরিবর্তনের সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাবে কি না, তা নির্ভর করবে অর্থনীতি, নীতিনির্ধারণ ও সম্পদ বণ্টনের ওপরও।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!