ঢাকা,  বুধবার   ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটে ‘যুদ্ধকে না’ বলেছে জনগণ: বাঘের গালিবাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:০০, ৪ নভেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ভোটে ‘যুদ্ধকে না’ বলেছে জনগণ: বাঘের গালিবাফ
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়কে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনগণের অনাস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে তেহরান। দেশটির প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন ভোটাররা যুদ্ধের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ‘বিবেকের তাড়নায় হোক কিংবা জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে, আমেরিকানরা যুদ্ধকে না বলেছে। আমরা এই বার্তাকে সমর্থন করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার যদি আন্তর্জাতিক স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থ রক্ষায় জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তাদের এই না-এর পরিণতি দুঃস্বপ্নের মতো হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শুল্কনীতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নির্বাচনে ভোটারদের অসন্তোষের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় যে দলই থাকুক না কেন, ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের শত্রুতার নীতিতে পরিবর্তন আসবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব থাকার কথা স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পরবর্তী সময়ে লেবানন ও ইয়েমেনেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বর্তমানে অনেকটা অচলাবস্থায় রয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে। সংঘাত আবারও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছেন।

এদিকে, ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়কে স্বাগত জানালেও নতুন করে হামলার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তেহরান। নির্বাচনে রাজনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতে ট্রাম্প আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন বলে ইরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

সূত্র: এএফপি, রয়টার্স, দ্য ডেইলি স্টার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!