ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

রাজধানীর প্রবেশদ্বারে অবাধে চলছে অবৈধ গাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০:০৭, ২১ জুলাই ২০২২
রাজধানীর প্রবেশদ্বারে অবাধে চলছে অবৈধ গাড়ি
রাজধানীর প্রবেশদ্বারে অবাধে চলছে অবৈধ গাড়ি। ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

রাজধানীর প্রবেশদ্বার ধউর বেড়িবাঁধ ক্রসিং দিয়ে অবাধে চলছে শতাধিক রুট পারমিটবিহীন গাড়ি, সিএনজি ও অটোরিকশা। বেশির ভাগ চালকেরই লাইসেন্সও নেই। এসব যানবাহন চলাচলে ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।

আশুলিয়া থেকে ধউর বেড়িবাঁধ ক্রসিং দিয়ে কামারপাড়া হয়ে আব্দুল্লাহপুর ও টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব অবৈধ যানবাহন। 

অভিযোগ রয়েছে, মাসিক চুক্তিতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার ট্রাফিক পুলিশের কিছু টিআই, সার্জেন্টকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে রাজধানীতে প্রবেশ করছে এসব যানবাহন।

Advertisement

ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে ধরা পড়লেও চালকরা নামমাত্র জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন। অনেকক্ষেত্রে লাইসেন্স না থাকা বাসচালককে আটক করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু এক-দুই মাস পরই বেরিয়ে তারা সেই পুরোনো পেশায় ফিরছেন। এদের হাতেই ঘটছে ভয়ঙ্কর সব দুর্ঘটনা। লাইসেন্স বাতিলের দায়বদ্ধতা না থাকায় এসব চালক সড়কে থাকেন বেপরোয়া। কখনো কখনো এসব বাসচালক প্রতিযোগিতায় মেতে উঠছেন। এতে ঘটছে দুর্ঘটনা।

সরেজমিন দেখা যায়, ধউর বেড়িবাঁধ ক্রসিং দিয়ে আশুলিয়া এক্সপ্রেস, আশুলিয়া হাইওয়ে মিনিবাস ও আলহামদুলিল্লাহ পরিবহন নামে রুট পারমিট ও ফিটনেসবিহীন এসব গাড়ি অবাধে রাজধানীতে প্রবেশ করছে। এদের মধ্যে আলহামদুলিল্লাহ পরিবহন আগে বন্ধন পরিবহন নামে এই রুটে চলাচল করতো। কিছুদিন আগে কামারপাড়ায় এক দুর্ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী নিহত হওয়ায় তারা নাম পাল্টে আলহামদুলিল্লাহ পরিবহন নামে চলাচল করছে।

এছাড়াও গাজীপুর ও ঢাকা জেলার সিএনজি অটোরিকশা অবাধে প্রবেশ করছে রাজধানীর কামারপাড়া ও ধউর বেড়িবাঁধ ক্রসিং দিয়ে। 

রাজধানীর প্রবেশদ্বারে অবাধে চলছে অবৈধ গাড়ি। ছবি- ডেইলি বাংলাদেশ

এদিকে প্রতিদিন বিভিন্ন আন্তঃজেলা বাস, ট্রাক থামিয়ে অভিযানের নামে চাঁদা দাবি করছেন ট্রাফিক পুলিশের কিছু কর্মকর্তা। তারা মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে ট্রাফিক বক্সে ডেকে নেন।  সেখানে মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায়ের পথ করে ঐ সব যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দেন। 

রুট পারমিট ও ফিটনেস ছাড়া কীভাবে আশুলিয়া বেড়িবাঁধ রুটে এসব গাড়ি চলছে- এমন বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া এক্সপ্রেসের ম্যানেজার মোহাম্মদ হাশেম জানান, আমাদের আশুলিয়া পর্যন্ত রুট পারমিট নেয়া আছে। আশুলিয়া থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত যাওয়ার রুট পারমিটের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এখনো অনুমতি পাইনি।

আন্তঃজেলা রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের আব্দুল্লাহপুর কাউন্টার ম্যানেজাররা জানান, আমাদের রুট পারমিট থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক দিন ধরে গাড়ি আটকে ট্রাফিক বক্সে যোগাযোগ করতে বলেন এই এলাকার টিআই আরাফাত। 

আজমপুরের কাউন্টার ম্যানেজার (পরিচয় গোপন রাখা শর্তে) জানান, গত মঙ্গলবার ধউর ক্রসিংয়ে আমার একটি গাড়ি আটক হলে ড্রাইভার খবর দেন। আজমপুর কাউন্টার থেকে যেতে দেরি হওয়ায় আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন টিআই আরাফাত। আমি মাসিক ২ হাজার টাকা চুক্তিতে গাড়ি ছাড়িয়ে আনি। এটা কাউকে জানালে পরবর্তীতে সমস্যা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এজন্য সবাই সংকোচে আছে।

ঐদিনই আজমপুর কাউন্টারে এমন তথ্য জানতে গেলে অন্য ম্যানেজাররা জানান, ধউর বেড়িবাঁধ ক্রসিংয়ের টিআই আরাফাত আমাদেরও তার সঙ্গে দেখা করার জন্য খবর পাঠিয়েছেন। আমরা এখনো যাইনি। তবে কী কারণে খবর পাঠিয়েছেন, তা তারা জানেন না। 

এ বিষয়ে ধউর বেড়িবাঁধ ক্রসিং এলাকার টিআই আরাফাতের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

রাজধানীর এই প্রবেশদ্বার দিয়ে রুট পারমিটবিহীন গাড়ি চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। যদি সুনির্দিষ্ট কোনো গাড়ি থাকে (যাদের রুট পারমিট নেই) তাহলে জানাবেন। আমরা অফিসার পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেব।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচলে এখনো অনেক বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। চাঁদাবাজির কারণে লাইসেন্সবিহীন চালকের সংখ্যা বেশি এবং ফিটনেসবিহীন ও রুট পারমিটবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল করে থাকে। 

তিনি বলেন, একটি বাস রাস্তায় চালাতে গেলে দিনে গড়ে বিভিন্ন সেক্টরে ১ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। এখানে বাসমালিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করেন না। আবার চালকের লাইসেন্স আছে কিনা, রুট পারমিট, ফিটনেস যাচাই-বাছাই করার দায়িত্ব বিআরটিএ ও পুলিশের।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!